নিট ও সিবিএসই অনিয়ম, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা চেয়ে যন্তর মন্তরে উত্তাল বিক্ষোভ

নিট ও সিবিএসই অনিয়ম, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা চেয়ে যন্তর মন্তরে উত্তাল বিক্ষোভ

নিট (NEET) ও সিবিএসই (CBSE) পরীক্ষার অনিয়ম এবং দুর্নীতি নিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে যে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় গভীর সংকটের প্রতিফলন। এই আন্দোলনের মূল বিষয়বস্তু ও দাবিসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:

বিক্ষোভের মূল কারণ ও দাবি:

  • শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবি: নিট ও সিবিএসই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ইস্তফার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন।
  • ডিজিটাল ব্যবস্থার সমালোচনা: তাড়াহুড়ো করে এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়াই শিক্ষাব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার (ডিভিটালাইজেশন) তীব্র বিরোধিতা করেছেন অভিভাবক ও আন্দোলনকারীরা। তাঁদের মতে, এই অপরিকল্পিত পদ্ধতির ফলেই অসামঞ্জস্য ও ভুলত্রুটি তৈরি হচ্ছে।
  • জবাবদিহিতার অভাব: আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষা পরিচালনা। শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে অভিভাবক ও সমাজকর্মীরা সরব হয়েছেন।
  • মানসিক চাপ ও ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ: মনোবিজ্ঞানী সুগন্ধার মতে, এই ধরণের অব্যবস্থা ছাত্রছাত্রীদের ওপর তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে, যার ফলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। এই পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারকে নিতে হবে বলে আন্দোলনকারীরা দাবি জানিয়েছেন।

আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য দিক:

  • বিশিষ্টদের অংশগ্রহণ: সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
  • দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি: যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ বা পরীক্ষার অনিয়মের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন আয়োজকরা।
  • অভিভাবকদের উদ্বেগ: রাধেশ্যাম কৈথালের মতো অভিভাবকরা বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ডিজিটাল পদ্ধতির অপপ্রয়োগ এবং পরিকাঠামোগত ত্রুটি নিয়ে তাঁদের ক্ষোভ জানিয়েছেন, যা বহু পরিবারকেই আজ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এই বিক্ষোভ ও আন্দোলন প্রমাণ করে যে, দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ এবং স্বচ্ছ নিয়োগ ও ভর্তি প্রক্রিয়ার দাবি এখন জাতীয় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *