সিপিএম থেকে তৃণমূল, তারপর বহিষ্কার: ঋতব্রত ব্যানার্জির রাজনৈতিক উল্কাপতনের কাহিনী

সিপিএম থেকে তৃণমূল, তারপর বহিষ্কার: ঋতব্রত ব্যানার্জির রাজনৈতিক উল্কাপতনের কাহিনী

ঋতব্রত ব্যানার্জির রাজনৈতিক জীবন নিঃসন্দেহে বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক অত্যন্ত কৌতূহলব্যঞ্জক অধ্যায়। ছাত্রনেতা থেকে রাজ্যসভার সাংসদ, এবং পরবর্তীতে তৃণমূলের বিধায়ক হিসেবে তাঁর উত্থান ও পতন—এই পুরো যাত্রাপথটি কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কম নয়।

আপনার শেয়ার করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঋতব্রতর রাজনৈতিক জীবনের প্রধান বাঁকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

রাজনৈতিক যাত্রার মাইলফলকসমূহ:

  • বামপন্থী উত্থান: সাউথ পয়েন্ট ও আশুতোষ কলেজের মেধাবী ছাত্র ঋতব্রত এসএফআই (SFI)-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ আট বছর দায়িত্ব পালন করেন। সীতারাম ইয়েচুরির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ঋতব্রত ৩৪ বছর বয়সেই রাজ্যসভার সাংসদ হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।
  • সিপিএম থেকে বহিষ্কার: ২০১৭ সালে জীবনযাপন ও দলবিরোধী কাজের অভিযোগে প্রথমে সাসপেন্ড ও পরে বহিষ্কার হন। সে সময় দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তাঁর বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার এবং ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির অভিযোগ তাঁর ভাবমূর্তিকে প্রবলভাবে আঘাত করে।
  • তৃণমূলে নতুন ইনিংস: বাম থেকে ডিগবাজি খেয়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া এবং মমতা ব্যানার্জিকে ‘প্রকৃত বামপন্থী’ আখ্যা দেওয়া ছিল তাঁর রাজনীতির একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। ২০২১ সালে তিনি তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্বও পান।
  • আবারও বিতর্ক ও বহিষ্কার: ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বার রাজ্যসভায় সুযোগ পাওয়া এবং ২০২৬-এ উলুবেড়িয়া পূর্ব থেকে বিধায়ক হওয়ার পরই তিনি বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করা এবং দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার চিঠিতে সই জালের অভিযোগ নিয়ে তাঁর সাথে দলের দূরত্ব চরম আকার ধারণ করে।

তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া:

মমতা ব্যানার্জি অত্যন্ত কড়া ভাষায় তাঁর বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঋতব্রতর কোনো নীতি-নৈতিকতা নেই। মজার ব্যাপার হলো, সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে মমতা ব্যানার্জি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, সিপিএমের সিদ্ধান্তটি (তাঁকে বহিষ্কার করা) ভুল ছিল না।

বিশ্লেষণ:

ঋতব্রত ব্যানার্জি এমন একজন রাজনীতিবিদ যিনি আদর্শের চেয়ে সুবিধাবাদী রাজনীতি বা ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে বারবার নিজেকে মানিয়ে নিতে চেয়েছেন। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন থেকে শুরু করে মমতা ব্যানার্জির মন্ত্রিসভা বা দল—প্রতিটি স্তরেই তিনি নিজের জায়গা তৈরি করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারেননি। তাঁর এই ‘ফুটবল রাজনীতির’ (এক দল থেকে অন্য দলে যাওয়া) পরিণাম এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ঠেকেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *