‘আজ আমি আমার আসল সম্পদ খুঁজে পেয়েছি’! এই বাবার গল্প আপনার চোখে জল এনে দেবে

‘আজ আমি আমার আসল সম্পদ খুঁজে পেয়েছি’! এই বাবার গল্প আপনার চোখে জল এনে দেবে

পৃথিবীতে বাবার ভালোবাসার চেয়ে বড় সম্পদ আর কিছুই হতে পারে না। চরম দারিদ্র্য ও বেকারত্বের যন্ত্রণাকে ভুলিয়ে দিতে পারে সন্তানের এক চিলতে হাসি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই এক অভাবনীয় ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ভাইরাল হয়েছে, যা নেটিজেনদের চোখে জল এনে দিয়েছে।

প্রসবকক্ষের বাইরে বেকার বাবার হাহাকার

হাসপাতালের করিডোরে যখন সকলেই নতুন অতিথির অপেক্ষায় আনন্দিত, তখন এক কোণে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন এক বাবা। তাঁর কান্নার কারণ ভয় নয়, বরং চরম আর্থিক অনটন। পকেটে কানাকড়িও নেই, স্ত্রীর প্রসবের খরচ কীভাবে মেটাবেন বা সদ্যোজাত সন্তানের জন্য নতুন জামা ও খেলনা কোথা থেকে কিনবেন, সেই চিন্তাতেই দিশাহারা ছিলেন তিনি।

দারিদ্র্য ভুলে কন্যাসন্তানকে বুকে জড়িয়ে পরম শান্তি

দুশ্চিন্তার মাঝেই প্রসূতি বিভাগের দরজা খুলে যায় এবং নার্স এসে জানান যে তিনি একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন। নার্স যখন সেই ছোট্ট দেবদূতকে তাঁর হাতে তুলে দেন, তখন ঘটে এক ম্যাজিক! বেকারত্বের যন্ত্রণা ও দারিদ্র্যের গ্লানি মুহূর্তে উধাও হয়ে যায়। নিজের ছেঁড়া জামায় মোড়ানো শিশুকন্যাকে বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। গর্বের সঙ্গে বলে ওঠেন, “আজ আমি আমার আসল সম্পদ খুঁজে পেয়েছি!”

কে এই হতভাগ্য বাবা

জানা গিয়েছে, এই বাবার নাম রমেশ। তিনি আদতে উত্তর কর্ণাটকের একটি ছোট গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামে কাজ না থাকায় কাজের খোঁজে শহরে এসেছিলেন এবং বর্তমানে বেঙ্গালুরুর একটি শ্রমিক শিবিরে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন। গত কয়েক মাস ধরে কোনো কাজ না থাকায় চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটছিল তাঁর। তবে এই কন্যাসন্তানের জন্ম তাঁর জীবনে নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে।

সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল সোশ্যাল মিডিয়া

রমেশ ও তাঁর সদ্যোজাত কন্যার এই আবেগঘন মুহূর্তের গল্প ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তেই প্রশংসার বন্যা বয়ে গিয়েছে। যেখানে আজও সমাজের একাংশ কন্যাসন্তানের জন্মে আক্ষেপ করেন, সেখানে এই দরিদ্র বাবার এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা সকলকে অনুপ্রাণিত করেছে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ এই একরত্তি মেয়ের ভবিষ্যৎ ও পরিবারটিকে আর্থিকভাবে সাহায্য করার জন্য স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এগিয়ে এসেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *