সংসদেও কি এবার ‘নতুন তৃণমূল’, কাকলি ও সুখেন্দুকে বহিষ্কারের পথে ঘাসফুল শিবির!

সংসদেও কি এবার ‘নতুন তৃণমূল’, কাকলি ও সুখেন্দুকে বহিষ্কারের পথে ঘাসফুল শিবির!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সংকট কাটার কোনো লক্ষণই নেই। রাজ্য বিধানসভার পর এবার খোদ দেশের সংসদেও বড়সড় ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে ঘাসফুল শিবির। দলীয় সূত্রের খবর, দলবিরোধী কাজ এবং সংসদীয় কমিটি ভাঙার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বারাসাতের লোকসভা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়কে খুব শীঘ্রই বহিষ্কার করতে চলেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

‘নতুন তৃণমূল’ গড়ার চক্রান্ত এবং নেত্রীর হাতে প্রমাণ

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে খবর এসেছে যে, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং সুখেন্দু শেখর রায় দলের সংসদীয় কমিটিতে বড় ফাটল ধরাতে সক্রিয় হয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা মূল অভিযোগগুলো হলো:

  • তাঁরা একাধিক দলীয় সাংসদকে নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন।
  • একটি সমান্তরাল গোষ্ঠী বা ‘নতুন তৃণমূল’ গঠন করে তাতে যোগ দেওয়ার জন্য অন্যান্য সাংসদদের ওপর লাগাতার চাপ সৃষ্টি করছেন।

সূত্রের দাবি, এই গোপন চক্রান্ত সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ইতিমধ্যেই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে এসে পৌঁছেছে। ফলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বা সন্দীপন সাহার মতো অতীতে বহিষ্কৃত নেতাদের পথেই এই দুই হেভিওয়েট সাংসদকে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও বিদ্রোহীদের প্রকাশ্য অবস্থান

২০২৬-এর নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর থেকেই বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সুর ছিল ভিন্ন। তিনি একাধিকবার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ভোটকুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’ (I-PAC)-এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তোপ দেগেছেন। এমনকি দলবদলের জল্পনার মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক সভাতেও তাঁকে যোগ দিতে দেখা যাওয়ায় ক্ষোভ চরমে পৌঁছায় ঘাসফুল শিবিরের।

অন্যদিকে, আর জি কর কাণ্ডের পর থেকেই দলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন প্রবীণ রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। বিধানসভা ভোটে দলের পরাজয়ের পর তাঁর সেই ক্ষোভ আরও তীব্র রূপ নেয়। এবার এই দুই ক্ষুব্ধ নেতার যৌথ পরিকল্পনা মমতার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে।

বিধানসভার ছায়া এবার সংসদে?

তৃণমূলের জন্য এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের ধাক্কা নতুন নয়। ইতিমধ্যেই রাজ্য বিধানসভায় দলটির ৫৮ জন বিধায়ক দলনেত্রীর নির্দেশ অমান্য করে সম্পূর্ণ আলাদা পরিষদীয় দল গঠন করেছেন, যার বিরোধী দলনেতা হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার সেই একই ‘বিদ্রোহী’ মডেল এবার দিল্লিতেও কার্যকর হতে চলেছে এবং দলের সংসদীয় কমিটি দু’টুকরো হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ড্যামেজ কন্ট্রোলে দিল্লিতে অভিষেক

সংসদীয় দল ভাঙার স্পষ্ট আঁচ পেয়েই শনিবার তড়িঘড়ি নয়াদিল্লি উড়ে গেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, রবিবার তিনি দলের সমস্ত সাংসদদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছেন। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই বৈঠকের দিকেই—কারা অভিষেকের ডাকে সাড়া দিয়ে আনুগত্য বজায় রাখেন, আর কারা দূরত্ব বজায় রেখে বিদ্রোহের নতুন অধ্যায় শুরু করেন, তা আজই স্পষ্ট হয়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *