ভারতে দ্রুত কমছে জন্মহার, ইলন মাস্কের সতর্কবার্তায় কোন বড় বিপদের ইঙ্গিত!

ভারতে দ্রুত কমছে জন্মহার, ইলন মাস্কের সতর্কবার্তায় কোন বড় বিপদের ইঙ্গিত!

ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণার বিপরীতে এবার উঠে এল এক আশঙ্কাজনক চিত্র। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক ভারতের ক্রমাগত কমতে থাকা জন্মহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ভারতের শিক্ষিত সমাজ বহু বছর আগেই সন্তান জন্মের দিক থেকে ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’ বা প্রতিস্থাপন স্তরের নীচে নেমে গিয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও এই সতর্কবার্তায় সিলমোহর দিচ্ছে। ২০২৪ সালের স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (SRS) এবং রাষ্ট্রসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে মোট প্রজনন হার কমে দাঁড়িয়েছে ১.৯-এ, যা জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ২.১ হারের চেয়ে অনেকটাই কম।

বদলাচ্ছে পারিবারিক কাঠামো ও প্রজনন হার

বর্তমানে দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এক সন্তান নীতি গ্রহণ, অবিবাহিত থাকার প্রবণতা অথবা বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জনসংখ্যাবিদদের মতে, এই প্রজনন হার দীর্ঘ সময় ধরে ২.১-এর নীচে থাকলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমতে শুরু করে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ বা মধ্যপ্রদেশের মতো কয়েকটি রাজ্য ছাড়া দেশের প্রায় সর্বত্রই জন্মহার কমছে। জন্মহার ও মৃত্যুর হারের এই ব্যবধান আগামী দিনে দেশকে নেগেটিভ পপুলেশন গ্রোথ বা ঋণাত্মক জনসংখ্যা বৃদ্ধির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

অর্থনীতি ও সমাজে আসন্ন সংকট

ভিড় বা জনসংখ্যা কমে যাওয়া আপাতদৃষ্টিতে স্বস্তিদায়ক মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা দেশের জন্য এক বিশাল বিপদের কারণ হতে পারে। প্রজনন হার একটানা কমতে থাকলে সমাজে তরুণ ও কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পায় এবং প্রবীণদের অনুপাত বাড়তে থাকে। এর ফলে শিল্প, পরিষেবা ও উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রবল কর্মী সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা সরাসরি দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে। পাশাপাশি, বয়স্কদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাব্যবস্থা, পেনশন ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে সরকারের বিপুল আর্থিক বোঝা বৃদ্ধি পায়। বিপুল জনসংখ্যার দেশ ভারত বর্তমানে এমন এক জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সমাজ ও অর্থনীতির জন্য নিঃসন্দেহে এক গভীর চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *