ক্ষমতা বদলাতেই দিল্লির বড় পদক্ষেপ, আড়াই হাজার বাংলাদেশির পরিচয় জানতে ঢাকাকে চিঠি!

ক্ষমতা বদলাতেই দিল্লির বড় পদক্ষেপ, আড়াই হাজার বাংলাদেশির পরিচয় জানতে ঢাকাকে চিঠি!

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতে বেআইনিভাবে বসবাসকারী ২ হাজার ৮৬০ জনের নাগরিকত্ব যাচাই করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। সাউথ ব্লক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে সবুজ সংকেত মিললেই এই ব্যক্তিদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রাজ্য প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানের মাঝেই নয়াদিল্লির এই পদক্ষেপ ওপার বাংলার ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ও নতুন নীতি

এই আকস্মিক তৎপরতার মূল কারণ পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজ্যে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ (চিহ্নিতকরণ, বাদ দেওয়া ও বহিষ্কার) নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে প্রায় ৪০০ জন নথিপত্রহীন মানুষকে আটকে রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি সীমান্ত জেলাগুলোতে শুরু হয়েছে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া। এই জোড়া পদক্ষেপের ফলে সীমান্ত এলাকায় তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যার জেরে গত কয়েক সপ্তাহে শত শত মানুষ ভারতের সীমান্ত এলাকায় ভিড় জমাচ্ছেন।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক এই প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভারতে বসবাসকারী যে কোনও দেশের বেআইনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর জন্য দু’দেশের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ওই ব্যক্তিদের তালিকা বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওপার বাংলা থেকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জবাব এলেই বিতাড়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

সীমান্তে উত্তেজনা ও ওপার বাংলার প্রতিক্রিয়া

নয়াদিল্লির এই কঠোর অবস্থানের কারণে দুই দেশের কূটনৈতিক ও সীমান্ত সম্পর্কে নতুন করে পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের পরিবর্তনের পরদিন থেকেই এই চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের এই পদক্ষেপের পর ওপার বাংলাতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাফ জানিয়েছেন, সীমান্ত দিয়ে জোর করে কাউকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হলে ঢাকা তার উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ফলে এই বহিষ্কার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *