লোকসভায় বড় ভাঙনের জল্পনা! সংখ্যার অঙ্ক মেলাতে হিমশিম বিদ্রোহী শিবির, তৎপর মমতা-অভিষেক

লোকসভার অন্দরে তৃণমূলের অস্বস্তি কি ভাঙনের সুর হয়ে বাজছে!
বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের টানাপোড়েন নতুন নয়, তবে লোকসভাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক জল্পনা রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মতো লোকসভাতেও কি শাসকদলের অন্দরে দুই শিবিরের বিভাজন স্পষ্ট হতে চলেছে, এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
সংখ্যার অঙ্ক মেলাতে হিমশিম বিদ্রোহীরা
দলত্যাগ বিরোধী আইনের মারপ্যাঁচ এড়াতে এবং লোকসভায় পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। সূত্রের খবর, রবিবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে নিজেদের অবস্থান জানানোর যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত বাস্তব রূপ পায়নি। কারণ, বিক্ষুব্ধ সাংসদরা এখনও তাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং সুখেন্দুশেখর রায়ের মতো হেভিওয়েট নেতারা দিল্লিতে অবস্থান করলেও, দল ভাঙানোর জন্য যে প্রয়োজনীয় শক্ত ভিত প্রয়োজন, তা এখনও তৈরি হয়নি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তৎরপতা
পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূল নেতৃত্ব অত্যন্ত সক্রিয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে দিল্লিতে পৌঁছেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং তাদের মনোমালিন্য দূর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের বিশ্বাস, মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি দলের অধিকাংশ সাংসদ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখছেন।
এই অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে দলের অন্দরের দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য এবং কৌশলগত ভিন্নতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহীরা কোনো বড় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন, তবে তা তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিকে সাময়িকভাবে সুসংহত করলেও দলের অন্দরের ক্ষোভ যে দীর্ঘমেয়াদে বড় কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে, তা স্পষ্ট। আপাতত গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরগুলো।