জনতার মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ, বঙ্গে ১ হাজার মণ্ডলে ‘পার্টি ক্লাস’ শুরু করছে বিজেপি!

জনতার মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ, বঙ্গে ১ হাজার মণ্ডলে ‘পার্টি ক্লাস’ শুরু করছে বিজেপি!

রাজ্যে সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে এবং কর্মীদের আদর্শ নেতা হিসেবে গড়ে তুলতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় জনতা পার্টি। বঙ্গ বিজেপির ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার প্রায় ১ হাজার মণ্ডলে শুরু হতে চলেছে বিশেষ ‘পার্টি ক্লাস’। সম্প্রতি কলকাতার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযান’-এর মাধ্যমে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক রূপরেখা তৈরি হয়েছে। দলের রাষ্ট্রীয় সাধারণ সম্পাদক তথা কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে এই প্রশিক্ষণ পর্বের সূচনা হয়। মূলত বর্তমান রাজনীতিতে আদর্শগত অবক্ষয় রুখতে এবং দলের কর্মীদের নৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি দৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ ক্লাসের আয়োজন করা হয়েছে।

আরএসএস শিবিরের ধাঁচে রাজনীতির পাঠ

বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গকে মোট ১০টি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। জুলাই মাস পর্যন্ত চলতে থাকা এই কর্মসূচিতে রাজ্যস্তর থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে বিভাগ, মণ্ডল এবং জেলা স্তরে রাজনীতির পাঠ দেওয়া হবে। জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শিবিরের ধাঁচেই এই ক্লাসগুলি পরিচালিত হবে, যার প্রতিটির সময়সীমা হবে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা। জেলা স্তরের প্রায় ৭০ জন পদাধিকারী মণ্ডল কমিটির সদস্যদের এই প্রশিক্ষণ দেবেন। এই পাঠ্যসূচিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, দীনদয়াল উপাধ্যায় এবং অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো মনীষীদের জীবনাবর্ত ও দলের ইতিহাস বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। সেই সঙ্গে কর্মীদের মনে করিয়ে দেওয়া হবে বিজেপির মূল আদর্শ, যা হলো— ‘সবার আগে রাষ্ট্র, তারপর দল এবং সবশেষে ব্যক্তি’।

জনসংযোগ বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই রাজনৈতিক পাঠশালার সম্ভাব্য প্রভাব রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বেশ সুদূরপ্রসারী হতে পারে। শুধু দলীয় মতাদর্শের প্রচারই নয়, সংগঠনকে তৃণমূল স্তরে আরও শক্তিশালী করতে কর্মীদের আচরণ ও কথনশৈলী উন্নত করার বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এখানে। আমজনতার মন জয় করতে কীভাবে কথা বলতে হবে এবং সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে কীরূপ ব্যবহার করা উচিত, তা এই ক্লাসের মাধ্যমে শেখানো হবে। এর ফলে একদিকে যেমন দলের নেতা-কর্মীদের সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনসেবামূলক মনোভাব বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে তেমনই সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ আরও নিবিড় হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজেপি তৃণমূল স্তর থেকে নতুন ও দক্ষ নেতৃত্ব তুলে আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *