নবাবী আম বিলুপ্ত মুর্শিদাবাদে! ২০০ প্রজাতির আমের ঐতিহ্য ফেরাতে কি উদ্যোগ নেবে নতুন সরকার?

বিলুপ্তির পথে মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী নবাবী আম, ঐতিহ্য রক্ষায় এখন বড় ভরসা নতুন সরকার
নবাবী আমলের ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের প্রতীক মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত আম আজ চরম সংকটে। এক সময় নবাবদের খাস বাগানে শোভা পাওয়া প্রায় ২০০ প্রজাতির আমের সিংহভাগই এখন বিলুপ্তির তালিকায়। পেস্তা, তোতা, চম্পা, সারেঙ্গা, সাহুপসন্দ, জাহান্নারা কিংবা চন্দনকোষার মতো সুস্বাদু ও সুগন্ধি আমের নাম এখন কেবলই ইতিহাস। এমনকি আমের রাজা বলে পরিচিত ‘কোহিতুর’ কিংবা কালাপাহাড়, বীরা, দিলসাধ, রানিপসন্দ, বেগম পসন্দের মতো বহু মূল্যবান প্রজাতিও এখন আর সহজে চোখে পড়ে না। বর্তমানে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টি প্রজাতি কোনোমতে টিকে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুর্শিদাবাদের আম চাষি ও ফল গবেষকদের মনে নতুন করে আশার আলো জাগিয়েছে রাজ্যের নতুন সরকার। বিশেষ করে নবনিযুক্ত পূর্ণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিলুপ্তির কারণ ও বিপন্ন বাগান
মুর্শিদাবাদের এই নবাবী আম বিলুপ্ত হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হলো সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং বাণিজ্যিকীকরণের চাপ। বহু প্রাচীন আমগাছ বয়সের কারণে উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়েছে, আবার অনেক ঐতিহাসিক বাগান কেটে আবাসন বা অন্য ফসলের চাষ করা হয়েছে। এছাড়া, নতুন প্রজন্মের চাষিদের মধ্যে কোহিতুর বা জাহান্নারার মতো স্পর্শকাতর ও বিশেষ পরিচর্যাযোগ্য আম চাষের চেয়ে কম পরিশ্রমে বেশি ফলনশীল আধুনিক জাতের আম চাষের প্রবণতা বেড়েছে। সরকারি স্তরে দীর্ঘদিনের উদাসীনতা এবং আম সংরক্ষণের জন্য কোনো বিশেষ পরিকাঠামো বা গবেষণা কেন্দ্র না থাকায় এই প্রাচীন প্রজাতিগুলো একে একে হারিয়ে গেছে।
অর্থনীতি ও ঐতিহ্যে সম্ভাব্য প্রভাব
নতুন সরকার যদি এই প্রজাতিগুলো পুনরুদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে চিরতরে হারিয়ে যাবে বাংলার এক অনন্য ঐতিহাসিক সম্পদ। তবে প্রশাসন যদি মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে এবং চাষিদের উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি আর্থিক অনুদান দেয়, তবে এই বিলুপ্তপ্রায় আমগুলো আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এটি সফল হলে কেবল মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যই রক্ষা পাবে না, বরং ‘হেরিটেজ ট্যুরিজম’ বা ঐতিহ্যবাহী পর্যটন এবং আম রপ্তানির মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে এক বিশাল জোয়ার আসবে। এখন দেখার বিষয়, নতুন প্রশাসন মুর্শিদাবাদের এই রাজকীয় স্বাদ ও ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে কতটা তৎপর হয়।