দিল্লিতে বড় ভাঙন! ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে ১২-২০ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদের গোপন বৈঠক, উপস্থিত শুভেন্দু
দলবদলের মেঘ দিল্লিতে, মমতা থাকা অবস্থাতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদেরা!
দিল্লির রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়। একদিকে যখন রাজধানীর কনস্টিটিউশন ক্লাবে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব মল্লিকার্জুন খাড়্গে ও সনিয়া গান্ধীর পাশে বসে ‘ইন্ডি’ জোটের বৈঠকে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক তখনই তার থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে জন্ম নিল এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। মতিলাল নেহরু মার্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে গোপনে বৈঠকে বসলেন তৃণমূলের একঝাঁক বিক্ষুব্ধ লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদ। সূত্রের খবর, এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও, যা তৃণমূলের অন্দরে এক বিশাল ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দিল্লির বুকেই মহাসংকটে তৃণমূলের সংসদীয় দল
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দেওয়া এই বৈঠকের আগেই রাজ্যসভার সাংসদ পদ এবং দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রবীণ নেতা সুখেন্দু শেখর রায়। তাঁর এই পদত্যাগের রেশ কাটতে না কাটতেই জানা যাচ্ছে, তৃণমূলের প্রায় ১২ থেকে ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহী হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতে এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। এই তালিকায় যেমন রয়েছেন কিছু পুরোনো ও অভিজ্ঞ মুখ, তেমনই কিছু নতুন সাংসদকেও দেখা গিয়েছে। ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে যাওয়ার আগে এই বিক্ষুব্ধ সাংসদেরা নিজেদের মধ্যে আলাদা একটি গোপন বৈঠকও সেরেছিলেন বলে খবর। একদিকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে উপস্থিত, ঠিক তখনই তাঁর দলের সাংসদদের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং সুপরিকল্পিত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বিধানসভার পর এবার কি লক্ষ্য সংসদ
তৃণমূলের এই ভাঙন অবশ্য আচমকা নয়। সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভাতেও তৃণমূলের পরিষদীয় দলে বড়সড় ধস নেমেছে। বিধানসভার ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জন আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সোমবার দুপুরে দিল্লিতে যখন এই তৎপরতা তুঙ্গে, ঠিক তখনই কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন যে, দিল্লির এই বৈঠকের পেছনে কলকাতার যোগসূত্র রয়েছে। সদ্য পদত্যাগী সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ের বক্তব্যকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “কলকাতা থেকে দিল্লির দূরত্ব ১৪৩৫ কিলোমিটার… এই ইচ্ছে কলকাতা থেকে দিল্লি পৌঁছ গিয়েছে।”
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও ভাঙনের কারণ
মূলত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাবই সাংসদদের এই বিদ্রোহের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিধানসভার পর এবার দেশের সংসদেও দল ভাঙার এই প্রক্রিয়া যদি চূড়ান্ত রূপ নেয়, তবে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের শক্তি একধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে। লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেই তৃণমূল বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে, যা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রকেও পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।