‘আসল তৃণমূল কোনটা বুঝতে পারছি না’! এবার দলবল নিয়ে ইস্তফা দিলেন সাঁইথিয়ার পুরপ্রধান বিপ্লব দত্ত

‘আসল তৃণমূল কোনটা বুঝতে পারছি না’! এবার দলবল নিয়ে ইস্তফা দিলেন সাঁইথিয়ার পুরপ্রধান বিপ্লব দত্ত

‘আসল তৃণমূল কোনটা বুঝতেই পারছি না’! ইস্তফা দিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতা সাঁইথিয়ার পুরপ্রধান

তৃণমূল পরিচালিত পুরসভাগুলোতে চলমান অস্থিরতার মাঝেই এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার সাক্ষী হলো বীরভূম। দলীয় কোন্দল এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে সাঁইথিয়া পুরসভার পুরপ্রধান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বিপ্লব দত্ত। সোমবার বীরভূমের জেলাশাসকের দফতরে গিয়ে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। শুধু পুরপ্রধানের পদই নয়, একই সঙ্গে কাউন্সিলর পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। বিপ্লব দত্তের এই সিদ্ধান্তের পরপরই সাঁইথিয়া পুরসভার ১৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১৪ জনই পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে, যা জেলা রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ভেতরের কোন্দল ও মোহভঙ্গ

পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বেরিয়ে এসে বিপ্লব দত্ত ক্ষোভ ও হতাশা উগরে দিয়ে জানান, দলের বর্তমান সাংগঠনিক রূপ দেখে তিনি বিভ্রান্ত। তাঁর মতে, দলে এত ভাঙন এবং উপদল তৈরি হয়েছে যে কোনটা আসল তৃণমূল কংগ্রেস, সেটাই এখন আর চেনা যাচ্ছে না। এ ছাড়া সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি স্পষ্ট জানান যে, সাধারণ মানুষও এখন শাসকদলকে প্রত্যাখ্যান করতে শুরু করেছে। এই রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণেই তিনি সসম্মানে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তাঁর দেখাদেখি অন্য কাউন্সিলররাও একযোগে পদত্যাগ করছেন।

ভোটের সমীকরণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

২০২২ সালের পুরভোটে সাঁইথিয়া পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩টিতেই কোনো বিরোধী প্রার্থী ছিল না। বাকি তিনটি ওয়ার্ডে বামেরা লড়াই করলেও কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুরসভা দখল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিনা যুদ্ধে জেতা সেই পুরসভাতেই এবার দলের অন্দরের ফাটল প্রকাশ্যে চলে এলো। এই গণ-ইস্তফার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বিরোধী শিবিরের দাবি, সে সময় ভয় দেখিয়ে বিরোধীদের ভোটে লড়তে দেওয়া হয়নি বলেই তৃণমূল একতরফা জিতেছিল, আর এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটায় তারা নিজেরাই ক্ষমতা ছেড়ে পালাচ্ছে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতা একটি পুরসভার প্রধানসহ সিংহভাগ কাউন্সিলরের এই আকস্মিক পদত্যাগ বীরভূম জেলা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাবকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। এই গণ-ইস্তফার ফলে সাঁইথিয়া পুরসভার প্রশাসনিক কাজকর্ম যেমন সম্পূর্ণ স্তব্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, তেমনই আগামী দিনে এই অঞ্চলে ঘাসফুল শিবিরের রাজনৈতিক একাধিপত্য ধরে রাখার ক্ষেত্রেও বড়সড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *