এবার ফিরহাদ হাকিমও বিদ্রোহীর খাতায়? দলত্যাগী বিধায়কদের বৈঠকে পৌঁছালেন ববি!
/indian-express-bangla/media/media_files/1Poyzzfm7riZXR08tMwk.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
তৃণমূলের অন্দরে মহাবিক্ষোভ, এবার কি ববিও ছাড়ছেন মমতার সঙ্গ
রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন তোলপাড় ফেলে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিল তৃণমূল কংগ্রেসের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ব্লক। শাসক দলের অন্দরে জমতে থাকা ক্ষোভ আচমকাই বিধানসভার অন্দরে বিস্ফোরক রূপ ধারণ করেছে। সোমবার বিধানসভায় বিদ্রোহী বিধায়কদের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠককে কেন্দ্র করে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে, নাকি ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালতে—তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেই সেই বৈঠকে যোগ দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন পুরমন্ত্রী তথা প্রবীণ তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম (ববি)। তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে সসম্মানে বিধানসভার ভেতরে নিয়ে যান বিদ্রোহী ব্লকের রাজ্য বিধানসভার ডেপুটি এলওপি (LOP) সন্দীপন সাহা। এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি এবার ফিরহাদ হাকিমও মমতার সঙ্গ ছাড়তে চলেছেন?
নেপথ্যের কারণ ও ক্ষমতার অলিন্দে ফাটল
দলীয় সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের অন্দরে পুরনো বনাম নব্য নেতৃত্বের ক্ষমতার লড়াই এবং টিকিট বণ্টন থেকে শুরু করে নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়ে একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধায়কদের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করায় সেই ফাটল এখন সম্পূর্ণ স্পষ্ট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব কমে যাওয়া এবং দলে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতেই বিধায়কদের এই বিদ্রোহী ব্লকের আত্মপ্রকাশ। সোমবারের এই বৈঠকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, সেখানে কেবল বিক্ষুব্ধ পুরনো নেতারাই নন, উপস্থিত রয়েছেন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এক বিধায়কও। যা ইঙ্গিত দেয় যে, অসন্তোষের শিকড় দলের কতটা গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ
ফিরহাদ হাকিমের মতো একজন শীর্ষস্তরের ও বিশ্বস্ত নেতার বিদ্রোহী বিধায়কদের বৈঠকে যোগ দেওয়া শাসক শিবিরের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের। এই ঘটনার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে চলেছে রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণে। যদি ফিরহাদ হাকিম আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিদ্রোহী ব্লকের হাত ধরেন, তবে বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার বড়সড় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সংকটে পড়তে পারে। একইসঙ্গে, অভিষেক ঘনিষ্ঠ বিধায়কের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে দলের শীর্ষ স্তরের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হচ্ছে, যা আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড় ধরনের সাংগঠনিক ভাঙন কিংবা আড়াআড়ি বিভাজন ডেকে আনতে পারে। বিধানসভার এই বৈঠক আগামী দিনে রাজ্যের শাসক দলের ভাগ্য নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে চলেছে।