ভোট লুট ও নিট দুর্নীতি নিয়ে এককাট্টা ইন্ডিয়া জোট! প্রধান বিচারপতিকে কড়া চিঠি বিরোধীদের

শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ে নতুন কৌশল নির্ধারণ করল বিরোধী দলগুলোর ‘ইন্ডিয়া’ জোট। সোমবার দিল্লিতে আয়োজিত এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকের পর বিরোধী নেতৃত্ব জানিয়েছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর-এর নামে দেশজুড়ে ভোট লুট এবং নিট ও সিবিএসই পরীক্ষার সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে সরাসরি দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে চিঠি দেওয়া হবে। একইসঙ্গে এই নজিরবিহীন দুর্নীতির দায়ভার নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিও সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও আইনি লড়াইয়ের রূপরেখা
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মূলত প্রাতিষ্ঠানিক অখণ্ডতা এবং যুবসমাজের স্বার্থ রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, নিট ও সিবিএসই পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং ব্যাপক দুর্নীতির কারণে দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং এর সম্পূর্ণ দায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর। পাশাপাশি, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এসআইআর-এর আড়ালে যে ব্যাপক কারচুপি ও ভোট চুরির অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে আইনি ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে বিরোধী শিবির। সামনেই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। তার ঠিক আগেই এই জোড়া ইস্যুকে হাতিয়ার করে সরকারকে সংসদের ভেতরে ও বাইরে কোণঠাসা করার সুস্পষ্ট প্রভাব দেখা যেতে পারে।
জোটের অন্দরে ফাটল ও ভবিষ্যৎ কৌশল
বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিলেও ইন্ডিয়া জোটের অভ্যন্তরীণ ফাটল এই বৈঠকেই অনেকটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ২৩টি দলের শীর্ষ নেতারা—যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব ও তেজস্বী যাদবরা উপস্থিত থাকলেও, আপ এবং ডিএমকে-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ শরিকরা বৈঠক বয়কট করেছে। এছাড়া আসন সমঝোতা নিয়ে জেএমএম এবং সিপিএম-এর ক্ষোভ জোটের সংহতি নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে। অন্যদিকে, বাংলায় সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিপর্যয় এবং বিধায়ক-সাংসদদের দলত্যাগের জেরে অস্তিত্ব সংকটে থাকা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন জাতীয় রাজনীতিতে ইন্ডিয়া জোটের মঞ্চকেই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছেন। ভাঙনের এই শঙ্কা কাটিয়ে জোটকে মজবুত রাখতে এখন থেকে প্রতি দুই মাস অন্তর বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্ডিয়া ব্লক, যার পরবর্তী বৈঠক আগামী ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।