ঋতব্রত নাকি শোভনদেব, বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার হাই কোর্টে!

রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা কে, এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক এবং আইনি মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিধানসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মমতাপন্থীরা। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এই সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামী ১১ জুন এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বীকৃতি বিতর্ক ও সইয়ের গরমিল
এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে গত মে মাসের এক ধারাবাহিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ। গত ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বিধায়কদের বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তীকালে দলের পক্ষ থেকে ৭০ জন বিধায়কের সই সম্বলিত একটি প্রস্তাবনাপত্র বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়। তবে বিধায়কদের শপথগ্রহণের সইয়ের সাথে এই প্রস্তাবনাপত্রের সইয়ের অমিল মেলায় শুরু হয় বিতর্ক। বিধানসভার সচিবের অভিযোগের ভিত্তিতে জল গড়ায় থানা থেকে সিআইডি তদন্ত পর্যন্ত। এই জটিল পরিস্থিতির মাঝেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৮ জন বিধায়ক বিধানসভার সচিবের কাছে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে আবেদন জানান এবং অধ্যক্ষের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি লাভ করেন।
মামলার সম্ভাব্য প্রভাব
অধ্যক্ষের এই সিদ্ধান্তকে মমতাপন্থী শিবির মেনে না নেওয়ায় বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন। এই আইনি লড়াইয়ের প্রভাব রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতির ওপর সুদূরপ্রসারী হতে পারে। আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে বিধানসভায় প্রকৃত বিরোধী শক্তির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। একদিকে সিআইডি তদন্তের চাপ এবং অন্যদিকে আইনি বৈধতার লড়াই, দুই শিবিরের জন্যই আগামী ১১ জুনের আদালতের শুনানি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।