বিধানসভার পর লোকসভাতেও ভাঙন, ‘আসল তৃণমূলের’ দখলে কি গোটা দলটাই!

রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমশ তীব্র হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের ভাঙন। বিধানসভার পাশাপাশি এবার লোকসভাতেও দলের রাশ চলে যাচ্ছে বিক্ষুব্ধ শিবিরের হাতে। ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করা এই বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা রাজ্য ও জাতীয় স্তরে শাসক দলের রাজনৈতিক অস্তিত্বের সামনে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
ঋতব্রতের শিবিরে বাড়ছে ভিড়
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে এই মুহূর্তে ৫৮ জন বিধায়ক রয়েছেন। চলতি সপ্তাহেই স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে আরও দুই বিধায়কের সমর্থন জানানোর কথা রয়েছে, যার ফলে এই সংখ্যা বেড়ে ৬২ হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা। সম্প্রতি বিধানসভায় ঋতব্রতের কক্ষে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ বিধায়ক শামিম আহমেদের বৈঠক এই জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিধায়কদের যোগদান নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কিছু না জানালেও, ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে দলবদলের সম্ভাবনা স্পষ্টতই জিইয়ে রেখেছেন।
লোকসভাতেও বিদ্রোহের আগুন
রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে বিদ্রোহের আঁচ পৌঁছেছে দিল্লিতেও। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন ইতিমধ্যেই চিঠি জমা দিয়েছেন। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংখ্যা অচিরেই বেড়ে ২১ হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। ফলে সংসদীয় দলেও কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে তৃণমূলের মূল শীর্ষ নেতৃত্ব।
দলের অন্দরে এই ব্যাপক ভাঙনের মূল কারণ হিসেবে শীর্ষ নেতৃত্বের একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সাংগঠনিক রদবদলকেই দায়ী করছেন ক্ষুব্ধ নেতা-বিধায়করা। প্রবীণ বিধায়ক অশোক দেবের প্রকাশ্য ক্ষোভ তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। ভোটে পরাজিত হওয়া সত্ত্বেও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে দলের রাজ্য সভাপতি করায় তিনি সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কারও সঙ্গে আলোচনা না করে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে অভিযোগ তাঁর। নেতৃত্বের প্রতি এই চরম অনাস্থা ও ধারাবাহিক ক্ষোভের জেরে আগামী দিনে মূল তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিকভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং দলত্যাগী এই বিশাল অংশই রাজ্যের প্রধান নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে পারে।