পাক সেনার গুলিতে রক্তস্নাত অধিকৃত কাশ্মীর, ১১ জনের মৃত্যুতে তীব্র নিন্দা ভারতের!

অধিকৃত কাশ্মীরে পাক বাহিনীর চরম দমন-পীড়ন ও বর্বরতাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি চূড়ান্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাওয়ালকোটে পাক সেনার সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৪ নিরাপত্তাকর্মী ও সাধারণ নাগরিকসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এই সহিংস ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭০ জনেরও বেশি মানুষ। পাকিস্তান সরকারের এই ‘রাষ্ট্রীয় নৃশংসতা’র তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের জবাবদিহিতা দাবি করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
নির্বাচনী রাজনীতি ও বিক্ষোভের কারণ
আসন্ন ২৭ জুলাই অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় জনপ্রিয় নাগরিক সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-কে দেশের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পাক সরকার। সরকারের এই স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবার অঞ্চলজুড়ে সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দেয় জেএএসি। এর আগেই রাওয়ালকোটের একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত এক সমাজকর্মীর মরদেহ নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জড়ো হওয়া সাধারণ মানুষের ওপর পাক রেঞ্জার্স ও পুলিশ অতর্কিত হামলা চালালে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। উত্তেজিত জনতা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে এবং ক্ষুব্ধ জনতা একপর্যায়ে স্থানীয় সেনা হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়।
দীর্ঘ পদযাত্রা ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
এই ঘটনার জেরে অধিকৃত কাশ্মীরজুড়ে তীব্র অস্থিতিশীলতা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিক্ষোভকারীরা ভীম্বর থেকে মিরপুর, কোটলি ও পুঞ্চের ওপর দিয়ে মুজাফফরাবাদ অভিমুখে একটি দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করেছে, যা ১০ জুন স্থানীয় বিধানসভার সামনে গিয়ে বিশাল অবস্থান ধর্মঘটে রূপ নেওয়ার কথা রয়েছে। এই আন্দোলন দমাতে পাক সেনা ও পুলিশ ইতিমধ্যেই ২০০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। উদ্ভূত চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে আমেরিকা, ব্রিটেন ও কানাডার মতো প্রথম সারির দেশগুলো তাদের নাগরিকদের জন্য জরুরি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, এই নৃশংসতা পাকিস্তানের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করার এবং চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি মরিয়া প্রচেষ্টা মাত্র।