গেমিং অ্যাপের আড়ালে ভয়ংকর অপরাধচক্র, পাক গ্যাংস্টারের টার্গেট নাবালকরা!

অনলাইন গেমিং অ্যাপকে হাতিয়ার করে ভারতে নিজেদের অপরাধমূলক জাল বিস্তার করছে পাকিস্তানের কুখ্যাত গ্যাংস্টাররা। সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের হাতে ধরা পড়া তিন নাবালককে জেরা করে এমনই এক চাঞ্চল্যকর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের হদিস মিলেছে। ধৃতদের কাছ থেকে পিস্তল-সহ একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যেভাবে পাতা হচ্ছে অপরাধের জাল
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অনলাইন গেম খেলার মাধ্যমে প্রথমে পাঞ্জাবের এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই নাবালকদের। এরপর ওই যুবকের মাধ্যমেই তারা পাকিস্তানে বসে থাকা কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির সংস্পর্শে আসে। এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ এবং সমাজমাধ্যমের সাহায্যে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত তারা। মূলত গেমিং অ্যাপের আড়ালে অল্পবয়সী ও নাবালকদের টার্গেট করে প্রথমে বন্ধুত্ব তৈরি করা হতো। পরে তাদের ছোটখাটো কাজের দায়িত্ব দিয়ে ধীরে ধীরে অস্ত্র পাচারসহ বড় ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ফেলা হচ্ছিল। গাজিয়াবাদের এক নাবালকের ক্ষেত্রেও একই কায়দায় পাঞ্জাবের যুবকের মাধ্যমে পাক গ্যাংস্টারের নেটওয়ার্কে জড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
সীমান্তের ওপার থেকে অনলাইন গেমিং অ্যাপকে ঢাল করে যেভাবে অস্ত্র সরবরাহ ও অপরাধচক্র পরিচালিত হচ্ছে, তা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এক বড় ঝুঁকি। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, আগামী দিনে এই নেটওয়ার্ককে অস্ত্র সরবরাহ ও দেশবিরোধী নাশকতামূলক কাজে ব্যবহার করতে পারে দুষ্কৃতীরা। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, এই অস্ত্রগুলি ঠিক কীভাবে ওই নাবালকদের হাতে পৌঁছাল, সেই উৎস সন্ধানেও জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা।