ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস! চন্দ্রনাথ সিনহাসহ একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ

ভোট পরবর্তী হিংসা ও লাগাতার হুমকির অভিযোগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহাসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রায়পুর-সুপুর অঞ্চলের বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী বোলপুর থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তদের তালিকায় স্থানীয় তৃণমূল কর্মী বাবু দাস, রায়পুর-সুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নিখিল বাচার-সহ অন্যান্যরা রয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোলপুর এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ও চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিযোগপত্রে বিজেপি কর্মীরা দাবি করেছেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রায়পুর সুপুর অঞ্চলের কাকুটিয়া, সেনকাপুর, সুপুর, নুরপুর, রজতপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় ভোট-পরবর্তী হিংসা শুরু হয়। একের পর এক বিজেপি নেতা-কর্মীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটের পাশাপাশি মহিলাদের ওপরও অত্যাচার চালানো হয়। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, বোলপুর পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের স্বামী তথা তৃণমূল কর্মী বাবু দাস প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে হুমকি দিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। তিনি ‘অজয় নদীতে হরিবোল বলতে বলতে বিসর্জন দেওয়া হবে’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সপক্ষে বেশ কিছু ছবি ও তথ্যও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
পুরো বিষয়টিতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিপক্ষকে এলাকাছাড়া করার উদ্দেশ্য কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করতে লাগাতার হুমকি এবং বলপ্রয়োগের কৌশলই এই উত্তেজনার মূল কারণ। অভিযোগের বিষয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা কোনো মন্তব্য করতে চাননি এবং অভিযুক্ত বাবু দাস গা ঢাকা দেওয়ায় তাঁর সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে বোলপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে এবং তা খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনার জেরে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও অস্থিরতা সৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।