মমতা সরকারের আমলের কেন্দ্রীয় তহবিলের খরচ খতিয়ে দেখছে দিল্লি, বড় পদক্ষেপের মুখে পশ্চিমবঙ্গ!

মমতা সরকারের আমলের কেন্দ্রীয় তহবিলের খরচ খতিয়ে দেখছে দিল্লি, বড় পদক্ষেপের মুখে পশ্চিমবঙ্গ!

পশ্চিমবঙ্গে পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন এবং বরাদ্দের অর্থ সঠিক উপায়ে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের নির্দেশে বিগত দিনগুলিতে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে আদেও পৌঁছেছে কি না, তা এবার গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হবে। দিল্লির এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

তদন্তের নেপথ্য কারণ ও ব্যাঙ্কের ভূমিকা

সরকারি সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রী নির্মলা সীতারামণের মন্ত্রক এই নজরদারি প্রক্রিয়া জোরদার করতে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলিকে মূল্যায়নের দায়িত্ব দিতে চলেছে। এই ব্যাঙ্কগুলি খতিয়ে দেখবে যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধাভোগীদের সংখ্যা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হয়েছে কি না এবং প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে কি না। মূলত, তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করার একাধিক অভিযোগ ওঠার কারণেই এই তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি বিস্তারিত রিপোর্টের ওপর সরাসরি নজরদারি করবে অর্থ মন্ত্রক। রিপোর্টে কোথাও কোনও ঘাটতি বা অনিয়ম ধরা পড়লে কেন্দ্র পরবর্তীকালে কড়া আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বকেয়া মেটানো ও উন্নয়ন প্রকল্পের নতুন দিগন্ত

একদিকে যখন অতীতের খরচের হিসাব চাওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বিভিন্ন বকেয়া বিল মেটানোর বিষয়েও ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। পর্যায়ক্রমে এই মুলতুবি বিলগুলি নিষ্পত্তি করা হলে রাজ্যের বিভিন্ন পরিষেবা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে আটকে থাকা একাধিক বকেয়া প্রকল্প দ্রুত গতি পেতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বহু প্রতীক্ষিত ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প রাজ্যে চালু হয়েছে, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার নতুন রেলওয়ে প্রকল্পের ছাড়পত্র মিলেছে এবং আটকে থাকা ৬১টি রেল প্রকল্পের জন্য দ্রুত জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা রাজ্যের সামগ্রিক পরিকাঠামো ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *