কাশ্মীরে বুক চিতিয়ে জঙ্গি দমন, শৌর্য চক্রে সম্মানিত বীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সূরজ প্রশার!

জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অসামান্য সাহসিকতা ও রণকৌশলের স্বীকৃতি পেলেন দেশের বীর সেনানীরা। রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ প্রতিরক্ষা সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানে সোমবার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সূরজ প্রশারকে দেশের অন্যতম সম্মানজনক সামরিক পদক ‘শৌর্য চক্র’-এ ভূষিত করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন বাজি রাখা যোদ্ধাদের সম্মানিত করা হয়। জম্মু-কাশ্মীরে শান্তি বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা রুখে দিতে নিরাপত্তা বাহিনীর এই ধারাবাহিক অভিযান যেমন সফল হয়েছে, তেমনই রাষ্ট্রীয় স্তরে এই স্বীকৃতি সামগ্রিকভাবে বাহিনীর মনোবলকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
চুন্টাওয়াডির সেই রুদ্ধশ্বাস রাত এবং যৌথ অভিযান
এই বীরত্বের নেপথ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের ৫ ও ৬ নভেম্বরের এক রুদ্ধশ্বাস সামরিক অভিযান। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জম্মু ও কাশ্মীরের বান্দিপোরা জেলার চুন্টাওয়াডি গ্রামে সশস্ত্র জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পেয়ে যৌথ ঘেরাও ও তল্লাশি অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। তল্লাশি চলাকালীন একটি বাড়িতে আত্মগোপন করে থাকা জঙ্গিরা আকস্মিকভাবে বাহিনীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল রূপ ধারণ করলে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সূরজ প্রশার নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে গিয়ে নিখুঁত রণকৌশলগত জায়গা দখল করেন।
রণকৌশল ও বীরত্বের চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত
গুলির লড়াই চলাকালীন এক জঙ্গি নিরাপত্তা বলয় ভেঙে পালানোর চেষ্টা করে এবং কয়েকজন জওয়ান আহত হন। চরম সংকটের মুখেও অটল থেকে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেন সূরজ প্রশার। তিনি পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিকে লক্ষ্য করে নির্ভুল গুলি চালান এবং একই সঙ্গে অভিযানে থাকা বাকি সদস্যদের কাছে রণক্ষেত্রের বাস্তব সময়ের তথ্য বা রিয়েল-টাইম আপডেট পৌঁছে দিতে থাকেন। তাঁর এই অকুতোভয় নেতৃত্ব ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ফলেই রাত সাড়ে আটটার মধ্যে জঙ্গিটিকে নির্মূল করা সম্ভব হয়। পরদিন ভোর পর্যন্ত কড়া নজরদারি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করেন তিনি।
চুন্টাওয়াডি অভিযানে বিশেষ ভূমিকার জন্য সূরজ প্রশারের পাশাপাশি সহকারী কমান্ড্যান্ট মহম্মদ শফিক, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাম গোয়াল এবং কনস্টেবল সদ্দাম হুসেনও শৌর্য চক্রে সম্মানিত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সূরজ প্রশারের এই বীরত্বপূর্ণ কাজ ছিল সাধারণ দায়িত্বের সীমার অনেক ঊর্ধ্বে, যা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের সফল অভিযান এবং তার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি উপত্যকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ দমনে যেমন কঠোর বার্তা দেবে, তেমনই দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।