কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নিতেই ফন্দি! প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তরিত করা হলো ব্যবসায়ীর ছেলেকে, গ্রেফতার প্রেমিকা

উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলায় এক তরুণকে জোর করে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, এক তরুণী ও তার পরিবার মিলে এক প্রতিষ্ঠিত ওষুধ ব্যবসায়ীর একমাত্র ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্রেনওয়াশ করে ধর্মান্তরিত করেছে। এরপর দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে তার বিয়ে (নিকাহ) সম্পন্ন করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ মূল অভিযুক্ত জিম ট্রেনার তরুণী ও তার বাবাকে গ্রেফতার করেছে।
ইউটিউব ভিডিও ও ব্রেনওয়াশ:
শামলির দয়ানন্দ নগরের বাসিন্দা দেবরাজ সিং মালিক স্থানীয় এক প্রতিষ্ঠিত ওষুধ ব্যবসায়ী। তাঁর ২৭ বছর বয়সী ছেলে আয়ুষ মালিক বি.ফার্মা পাশ করে বাবার ব্যবসাতেই যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, আয়ুষ অত্যন্ত সরল প্রকৃতির। কিন্তু সম্প্রতি তার আচরণে আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করেন পরিবারের সদস্যরা। সে দাড়ি রাখতে শুরু করে, মাথায় টুপি পরে দোকানে বসত এবং দিনে পাঁচবার নামাজ পড়ত। এমনকি নিজের নাম বদলে সে ‘রহমান’ রাখে। তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত তরুণীর ভাই আয়ুষের ফোনে পাকিস্তানের এক কট্টরপন্থী মুসলিম নেতার ইউটিউব চ্যানেল ও পেজ সাবস্ক্রাইব করে দেয়। আয়ুষ সারাক্ষণ সেই সব ভিডিও দেখত, যা দিয়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে ব্রেনওয়াশ করা হয়।
পরিচয় থেকে সম্পর্কের শুরু:
আয়ুষের সাথে অভিযুক্ত চাঁদনি কুরেশির পরিচয় হয় একটি হাসপাতালে। আয়ুষ পায়ের চোটের চিকিৎসার জন্য যে ফিজিওথেরাপি সেন্টারে যেত, চাঁদনি সেখানেই ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করত। সেখান থেকেই ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। পরে তারা দুজনেই ‘কুরেশি প্লাস’ নামে একটি জিমে যাওয়া শুরু করে, যেখানে চাঁদনি জিম ট্রেনার হিসেবে কর্মরত ছিল। সেখানে থেকেই তাদের সম্পর্কের শুরু। চাঁদনি দরিদ্র পরিবারের হলেও আয়ুষের কাছে নিজেকে ধনী হিসেবে জাহির করত। সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে সে আয়ুষের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করাত এবং সোনার গয়নাও কিনিয়েছিল।
দিল্লিতে নিকাহ ও বিচ্ছিন্নতা:
২০২৩ সালে চাঁদনি ও তার পরিবার আয়ুষকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে জোর করে ধর্মান্তরিত করে এবং তার সাথে চাঁদনির নিকাহ পড়ায়। আয়ুষের পরিবার এই বিয়ে সম্পর্কে কিছুই জানত না। বিয়ের ছয় মাসের মধ্যেই আয়ুষ বাড়ি ছেড়ে দিল্লির সিলেক্ট বিহার কলোনিতে চাঁদনির সাথে থাকতে শুরু করে। আয়ুষের বাবা যখন এই সম্পর্কের বিরোধিতা করেন, তখন চাঁদনির পরিবার তাকেও ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দেয় এবং প্রাণে মারার হুমকি দেয়। চাঁদনির ভাই আমন কুরেশি আয়ুষের বাবার দোকানেই কাজ করত, সে-ই আয়ুষকে ইসলামের রীতিনীতি ও প্রথা সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছিল।
সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র:
তদন্তে উঠে এসেছে, আয়ুষের বাবার কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির ওপর নজর ছিল চাঁদনি ও তার পরিবারের। সেই সম্পত্তি হাতিয়ে নিতেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের বেআইনি ধর্মান্তর বিরোধী আইনে জিম ট্রেনার চাঁদনি কুরেশি ও তার বাবা ইসলাম কুরেশিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদনির পরিবারের ৬ জন সদস্য এবং ৩ জন মৌলভি রয়েছেন। ৮ জন অভিযুক্ত এখনও পলাতক, তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এছাড়া স্থানীয় এক চিকিৎসক খুরশিদ আনোয়ারের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।