দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে বাদ পড়ল ‘ধাম’ শব্দ!

দিঘার জগন্নাথ মন্দির ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থেকে ‘ধাম’ শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সনাতন সংস্কৃতি ও মানুষের ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগ ওঠায় এই বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে পুরীর বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্রের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘোষণা দেন।
কেন এই সিদ্ধান্ত
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি দিঘায় এই মন্দির উদ্বোধনের সময়ই ‘ধাম’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে তীব্র আপত্তি ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে মঙ্গলবার তাঁর অনুরোধপত্রটি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন পুরীর সাংসদ। এর পরপরই নথিপত্র খতিয়ে দেখে রাজ্য প্রশাসন। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, পূর্ববর্তী প্রস্তাব অনুযায়ী এটি ‘সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ বা কালচারাল সেন্টার হিসেবে গড়ে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নিয়ম ভেঙে এতে ‘ধাম’ শব্দটি যুক্ত করা হয়, যা সনাতন ধর্মের রীতিনীতির পরিপন্থী।
পরিবর্তিত নাম ও সম্ভাব্য প্রভাব
খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকারের তরফে এই মর্মে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুরো কমপ্লেক্সটি ‘সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ হিসেবে পরিচিতি পাবে এবং মন্দিরের যে অংশে পূজার্চনা করা হয়, তা কেবল ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির’ নামেই অভিহিত হবে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ধর্মীয় ভাবাবেগ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের তৈরি হওয়া উত্তেজনার অবসান ঘটবে। পাশাপাশি, দুই রাজ্যের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখতেও এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।