শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়িতে কি আসছে মেট্রো? দুই শহরকে জুড়তে ‘আরবান রেল’ নিয়ে বড় পদক্ষেপ!
উত্তরবঙ্গের দুই প্রধান শহর শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও দ্রুত করতে বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দুই শহরের যাত্রী পরিষেবাকে সহজতর করতে এবার ‘আরবান রেল’ প্রকল্পের পথে হাঁটার কথা ভাবছেন রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ ও জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা বা ডিপিআর প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এই উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন নগর পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা।
কেন এই প্রকল্পের প্রয়োজন?
বর্তমানে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির মধ্যে যাতায়াতের জন্য প্রধানত সড়কপথের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে জাতীয় সড়ক ও সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে যানজট নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরবান রেল বা মেট্রো পরিষেবা দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন পরিকল্পনাবিদরা।
পরিকল্পনার রূপরেখা:
- সংযোগ: নিউ জলপাইগুড়ি (NJP), শিলিগুড়ি জংশন, শিলিগুড়ি টাউন, জলপাইগুড়ি রোড এবং জলপাইগুড়ি শহরকে একসূত্রে বাঁধার লক্ষ্য।
- প্রসার: শিলিগুড়ি, ফুলবাড়ি, মাটিগাড়া, বাগডোগরা ও রাজগঞ্জকে নিয়ে গড়ে ওঠা বৃহত্তর নগর অঞ্চলের জন্য এই রেল পরিষেবা আশীর্বাদ হতে পারে।
- প্রাথমিক পদক্ষেপ: আপাতত চালু থাকা রেললাইন ব্যবহার করেই লোকাল ট্রেন চালুর সম্ভাবনা রয়েছে, পরবর্তীকালে প্রয়োজন অনুযায়ী রেললাইন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
নেতাদের উদ্যোগ:
মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, দুই শহরের সেতুবন্ধনে রেলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে রেলমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠাবেন। অন্যদিকে, সাংসদ জয়ন্ত রায় জানিয়েছেন, এনজেপি-কে রেল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি এই দুই শহরের মধ্যে মেট্রো রেল পরিষেবা চালু করার বিষয়টি নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী এবং রেলমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সমগ্র অঞ্চলের অর্থনীতিতে। এখন দেখার, কবে এই স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোয়।