গ্রেফতারির তালিকায় এবার স্বপন সমাদ্দার, কলকাতা পুরসভায় ১০ নম্বর কাউন্সিলরের পতনে শোরগোল!

কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরদের গ্রেফতারির সিলসিলা যেন থামছেই না। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন পুরসভার ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার। খুনের চেষ্টা এবং শ্লীলতাহানির মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগে বুধবার ফুলবাগান এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২০২২ সালের একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে নারকেলডাঙা থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। স্বপন সমাদ্দারকে মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা পুরসভার মোট ১০ জন কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
ভোটপরবর্তী হিংসার অভিযোগ ও ক্ষমতার রদবদল
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির প্রাক্তন সদস্য স্বপন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে নারকেলডাঙা থানায় গত মঙ্গলবার এক মহিলা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতাধীন এই এফআইআরে খুনের চেষ্টা, শ্লীলতাহানি, বেআইনিভাবে আটকে রাখা, সম্পত্তি ধ্বংস, চুরি এবং ভয় দেখানোর মতো একাধিক মারাত্মক ধারা যুক্ত করা হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এলাকায় যে ভোটপরবর্তী হিংসা ছড়িয়েছিল, তার সঙ্গেই স্বপন সমাদ্দারের নাম জড়িয়েছে। তৎকালীন সময়ে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতাশীল থাকায় এলাকায় তাঁর ব্যাপক দাপট ছিল এবং সেই কারণে ভয়ে কেউ অভিযোগ করতে পারেননি। তবে বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হতেই দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দিয়ে থানায় হাজির হন অভিযোগকারী।
কাউন্সিলরদের ধারাবাহিক পতন ও সম্ভাব্য প্রভাব
গত কয়েক দিন ধরে কলকাতা পুরসভার একের পর এক কাউন্সিলর যেভাবে শ্রীঘরে যাচ্ছেন, তা রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে। এর আগে তোলাবাজির অভিযোগে পাটুলি থেকে বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত এবং ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুস্মিতা ভট্টাচার্য ও তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে জোড়াসাঁকোর কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে নাবালিকা হেনস্থার অভিযোগে পকসো আইনের ধারায় গ্রেফতার করা হয়। এই লাগাতার গ্রেফতারির ফলে কলকাতার স্থানীয় পুর-প্রশাসনিক কাঠামো ও জনপরিষেবায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের এমন ধারাবাহিক পতন শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সমীকরণকে এক নজিরবিহীন টানাপোড়েনের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।