সুরেন্দ্রনাথের ‘বেডরুম’ থেকে নিয়োগ দুর্নীতি, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রক পেয়েই কড়া অ্যাকশনের হুঁশিয়ারি জগন্নাথের

পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর উচ্চশিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েই ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করেছেন নতুন মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। বুধবার নবান্ন থেকে দফতর বণ্টনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই তিনি সোজা চলে যান বিকাশ ভবনে। সেখানে পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করার পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। সুরেন্দ্রনাথ কলেজের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরির বদলে ‘বেডরুম’ বা শয়নকক্ষ মেলার সাম্প্রতিক ঘটনাকে হাতিয়ার করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কলেজে কলেজে গড়ে ওঠা অনিয়ম ও ‘ঘুঘুর বাসা’ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়াই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
শিক্ষা সংস্কার ও নতুন কর্মসংস্কৃতির বার্তা
এক সময়ের ‘জ্ঞানসাগর’ ও ‘গুণসাগর’ খ্যাত বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রকে আবার দেশের এক নম্বর স্থানে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নতুন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী। বিকাশ ভবনে কাজের গতি বাড়াতে এবং ঢিলেঢালা ভাব কাটাতে কঠোর সময়ানুবর্তিতার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, সরকারি অফিসে ‘ইচ্ছেমতো আসা আর ইচ্ছেমতো চলে যাওয়ার’ পুরোনো সংস্কৃতি এবার পুরোপুরি বন্ধ হবে। এছাড়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও ছাত্র অধিকার ফিরিয়ে আনতে আগামী দিনে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন করানো হবে বলেও তিনি বড় আশ্বাস দিয়েছেন।
স্বচ্ছ নিয়োগ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি কার্যকরের লক্ষ্য
শিক্ষাক্ষেত্রে বিগত জমানার সবচেয়ে বড় কলঙ্ক ছিল নিয়োগ দুর্নীতি। এই প্রসঙ্গে কড়া অবস্থান নিয়ে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তাঁর জমানায় নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং সম্পূর্ণ ঘুষমুক্ত। বেকার যুবক-যুবতীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রতি বছর নিয়ম মেনে এসএসসি (SSC), সিএসসি (CSC) এবং পিএসসি (PSC)-র মাধ্যমে পরীক্ষা ও নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে, কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের পথে না হেঁটে জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে রাজ্যের গোটা উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলার সওয়াল করেছেন তিনি। পূর্বতন সরকারের আমলের বাকি সমস্ত দুর্নীতির পর্দাফাঁস করার ইঙ্গিত দিয়ে সবশেষে নতুন মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, “আগে আগে দেখো, হোতা হ্যায় ক্যায়া।”