ফলতায় জাহাঙ্গিরকে হারিয়ে জয়ী দেবাংশুর বিধায়ক পদে শপথ আগামী শুক্রবারই

রাজ্য রাজনীতির হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ফলতা বিধানসভা আসনের পুনর্নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা আগামী শুক্রবার বিধায়ক হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। তাঁর সঙ্গেই ওই দিন শপথ নেবেন হুগলির চণ্ডীতলা কেন্দ্রের জয়ী তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী স্বাতী খন্দকার। শুক্রবার সকাল ১১টায় বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু এই দুই নবনির্বাচিত বিধায়ককে শপথবাক্য পাঠ করাবেন বলে জানা গিয়েছে।
ফলতার ভোটের সমীকরণ ও নাটকীয় মোড়
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে একমাত্র ফলতা আসনেই পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ভোটের ঠিক দু’দিন আগে তৎকালীন শাসকদলের হেভিওয়েট প্রার্থী তথা স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খান নিজেকে লড়াই থেকে সরিয়ে নেওয়ার নাটকীয় ঘোষণা করেন। তবে আইনি নিয়মে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় ইভিএমে তাঁর নাম ও প্রতীক থেকে গিয়েছিল। ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হলে দেখা যায়, তৃণমূলের সেই প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গিরকে একেবারে চতুর্থ স্থানে ঠেলে দিয়ে রেকর্ড মার্জিনে জয় ছিনিয়ে নেন বিজেপির দেবাংশু পণ্ডা। অন্যদিকে, চণ্ডীতলা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী স্বাতী খন্দকার ভোটে জিতলেও একটি দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যাওয়ার কারণে এর আগে বাকিদের সাথে নির্দিষ্ট সময়ে শপথ নিতে পারেননি। ফলে শুক্রবার এই দুই ভিন্ন শিবিরের জয়ী প্রার্থীর একসাথে শপথগ্রহণ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কৌতুহল তৈরি হয়েছে।
আইনি লড়াই থেকে আইনসভার আঙিনায়
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতার এই জয় নতুন শাসকদলের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভোটের পর ফলতার বিতর্কিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পেশায় আইনজীবী দেবাংশু পণ্ডা গত মঙ্গলবার ডায়মন্ড হারবার আদালতে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে সরকারি পক্ষের সহকারী আইনজীবী হিসেবে নিজেই সওয়াল করেন। সেই আইনি লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে জামিনহীন পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর পর এবার সরাসরি আইনসভার আঙিনায় পা রাখছেন তিনি। এই শপথগ্রহণের পর ফলতা এলাকায় নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।