লক্ষ্মীবারেই মমতাকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত এবং দিল্লিতে সব রাজ্যের নেতাদের জরুরি বৈঠকে ডাকল কংগ্রেস
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/02/mamata-banerjee-supreme-court-election-commission-sir-west-bengal-2026-02-02-10-01-49.jpg?w=1200&resize=1200,675&ssl=1)
ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিয়ে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে জরুরি বৈঠক ডাকল কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। মাত্র এক দিনের নোটিসে সারা দেশের সমস্ত রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের দিল্লিতে ইন্দিরা ভবনে তলব করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের জোর জল্পনা, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে যোগ দেওয়া অথবা গোটা তৃণমূল কংগ্রেস দলটিকে মূল কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘিরেই এই তড়িঘড়ি বৈঠক। কংগ্রেসের ইতিহাসে এত কম সময়ের নোটিসে সমস্ত রাজ্যের শীর্ষ নেতাদের ডেকে পাঠানোর ঘটনা অত্যন্ত বিরল, যা দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের ঝাঁকুনির পূর্বাভাস দিচ্ছে।
দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক ও দলবদলের জল্পনা
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুতির পর তৃণমূলে যখন ভাঙন ক্রমশ বাড়ছে, তখনই দিল্লির ১০ জনপথে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নৈকট্য চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগের দিনই সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার ঠিক পরদিনই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই নেতার মধ্যে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক বৈঠক চলে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, মমতা ও অভিষেকের কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে শীর্ষস্তরে একপ্রস্ত রফাসূত্র তৈরি হয়েছে। জল্পনা রয়েছে, মমতাকে সর্বভারতীয় স্তরে এবং অভিষেককে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের মতো কোনো বড় পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধরনের প্রস্তাবের কথা অস্বীকার করা হয়েছে।
বৈঠকের গুরুত্ব ও জাতীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সাধারণত বড় কোনো জাতীয় ইস্যু বা সাংগঠনিক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের আগে এই ধরনের সর্বভারতীয় বৈঠক ডাকা হয়। বুধবার হঠাৎ করেই একপ্রকার তড়িঘড়ি এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার রাজ্যে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পুলিশের হাতে আটক হলেও, সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে তিনিও দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে বাংলায় বিজেপির নতুন সরকার গঠনের পর তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার তাগিদ। তৃণমূল যদি শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসে মিশে যায়, তবে তা কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেই নয়, বরং ২০২৬ সালের জাতীয় রাজনৈতিক সমীকরণে এবং বিরোধী জোটের নেতৃত্বে এক বিরাট এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।