তৃণমূলের নজিরবিহীন দুর্দিনে কংগ্রেসে ঘরওয়াপসির জল্পনা, সঞ্জয় রাউতের মন্তব্যে তীব্র আলোড়ন

তৃণমূলের নজিরবিহীন দুর্দিনে কংগ্রেসে ঘরওয়াপসির জল্পনা, সঞ্জয় রাউতের মন্তব্যে তীব্র আলোড়ন

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার জাতীয় রাজনীতিতেও এক মহাসঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস ছেড়ে নিজস্ব দল গঠন করার দীর্ঘ ২৮ বছর পর, দলের এই চরম দুর্দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি আবার ‘হাত’ শিবিরেই ফিরে যাচ্ছেন? এক সপ্তাহ আগেও যে বিষয়টি রাজনৈতিক মহলের ভাবনার বাইরে ছিল, দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একান্তে দীর্ঘ বৈঠকের পর তা এখন জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক শিবসেনা (উদ্ধবপন্থী) সাংসদ সঞ্জয় রাউতের একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যে।

তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া দল ও দিল্লির দৌত্য

গত ১৫ বছর ধরে বাংলায় একছত্র শাসন চালানো এবং লোকসভায় শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখা তৃণমূল কংগ্রেস গত ৪ মে-র নির্বাচনী ফলাফলের পর কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যেই দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র বিদ্রোহ শুরু হয়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়েছেন এবং সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন যে দলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনেরও বেশি তাঁর সঙ্গে রয়েছেন। অন্যদিকে, কলকাতায় মমতার বাড়ির পার্টি অফিস ও অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে সিআইডি তল্লাশি চলছে। বাংলায় যখন এমন চরম রাজনৈতিক ও আইনি বিপর্যয়, তখন কলকাতায় না থেকে মমতার দিল্লিতে ডেরা জমানো এবং সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার মরিয়া চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন।

সঞ্জয় রাউতের বার্তা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

এই আবহেই শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন, তৃণমূল (TMC), এনসিপি (NCP) বা কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা অন্যান্য দলগুলির এখন উচিত মূল দলে ফিরে যাওয়া। তাঁর মতে, বিজেপি যেভাবে আঞ্চলিক দলগুলিকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তার বিরুদ্ধে লড়তে গেলে একটি শক্তিশালী কংগ্রেসের নেতৃত্বই প্রয়োজন। নিজের তৈরি দলের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর, বিদ্রোহীদের হাত থেকে বাঁচতে এবং জাতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখতে মমতার সামনে এখন কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাওয়া বা জোটবদ্ধ হওয়াই সবচেয়ে বড় বিকল্প বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে আজীবন লড়াকু মানসিকতার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত নিজের তৈরি দল কংগ্রেসের হাতে তুলে দেবেন কি না এবং আজীবন বাংলায় কংগ্রেসের বিরোধিতা করা অধীর চৌধুরীর মতো নেতারা এই ‘ঘরওয়াপসি’ কীভাবে নেবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *