তৃণমূল ও কংগ্রেস মিশে গেলেও কিছুই বদলাবে না, সোনিয়া-মমতা বৈঠকের মাঝেই হুঙ্কার ঋতব্রতের

জাতীয় রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় জল্পনা হলো কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের একীভূতকরণ বা মার্জার প্রক্রিয়া। দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফায় দফায় দীর্ঘ বৈঠকের পর এই জল্পনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। যদি এই জল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়, তবে রাজ্য রাজনীতিতে তার প্রভাব কী হবে এবং নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করা বিদ্রোহী শিবিরের ভবিষ্যৎ কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। এই হাইভোল্টেজ আবহে মুখ খুলেছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রধান তথা বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শীর্ষ স্তরে কে কার সঙ্গে বৈঠক করছেন, তা নিয়ে তাঁরা বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন এবং তাঁরা কোনোভাবেই কংগ্রেসে মিশছেন না।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে অনড় বিদ্রোহী শিবির
দলীয় সমীকরণ তুলে ধরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বিধানসভায় তাঁদের পক্ষে থাকা বিধায়কের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৬৪ পার হয়ে গিয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের মোট ৮০ জন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন, যার মধ্যে ৬০ জনকে নিয়ে প্রথমে ব্লক তৈরি করেছিলেন ঋতব্রত। পরবর্তীতে সেই শিবিরে আরও ৪ জন বিধায়ক যুক্ত হয়েছেন। এই গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, রাজ্য বিধানসভায় এখন বিরোধী দল হিসেবে ঋতব্রতদের অংশটিই প্রকৃত সংখ্যাগরিষ্ঠ। অন্যদিকে, বিধানসভায় জাতীয় কংগ্রেসের মাত্র ২ জন বিধায়ক রয়েছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী বিধায়কের সংখ্যা মাত্র ১৬। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশটি কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলালেও তাঁদের সম্মিলিত বিধায়ক সংখ্যা কোনোভাবেই ঋতব্রত শিবিরের ধারেকাছে পৌঁছাতে পারবে না। এই কারণেই আইনি ও রাজনৈতিকভাবে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
আইনি জটিলতা ও রাজ্য রাজনীতির সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মার্জার জল্পনার নেপথ্যে রয়েছে লোকসভা ও রাজ্যসভায় তৃণমূলের ভাঙন রোখার মরিয়া চেষ্টা। তবে সংসদে এই কৌশল খাটলেও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভার ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সমীকরণ বদলানো কঠিন। কারণ দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচতে যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন, তা বর্তমানে ঋতব্রতদের দখলেই রয়েছে। ফলে তৃণমূলের মূল অংশটি কংগ্রেসে মিশে গেলেও ঋতব্রতদের বিধায়ক পদ খারিজ করা আইনিভাবে সম্ভব হবে না। এই বিষয়ে তৃণমূলের অফিশিয়াল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ দুই শীর্ষ নেত্রীর বৈঠকের কথা স্বীকার করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন। এই দ্বিমুখী টানাপড়েনের জেরে আগামী দিনে বাংলার আইনসভায় ক্ষমতার ভারসাম্য কোন দিকে ঘোরে, সেটাই এখন দেখার।