‘অন্য রাজ্য থেকে এসে বলবে বাংলার রাস্তা সেরা’, দায়িত্ব নিয়েই বড় ঘোষণা নতুন পূর্তমন্ত্রী অজয়ের

‘অন্য রাজ্য থেকে এসে বলবে বাংলার রাস্তা সেরা’, দায়িত্ব নিয়েই বড় ঘোষণা নতুন পূর্তমন্ত্রী অজয়ের

প্রতিবেদন:

কলকাতা: রাজ্যের পূর্ত এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের দায়িত্বভার গ্রহণ করেই পরিকাঠামো উন্নয়নের এক নতুন রূপরেখা তুলে ধরলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত মন্ত্রী অজয় কুমার পোদ্দার। বুধবার দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলার রাস্তাঘাট ও পরিকাঠামোকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য, যাতে ভিনরাজ্য থেকে আসা মানুষেরা বাংলার রাস্তার প্রশংসা করতে বাধ্য হন।

কী বললেন নতুন মন্ত্রী? সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অজয় কুমার পোদ্দার বলেন, “আমরা বাংলার পরিকাঠামোকে এমন এক স্তরে নিয়ে যাব, যাতে অন্য যে কোনও রাজ্য থেকে যাঁরা আমাদের এখানে আসবেন, তাঁরা এ রাজ্যে পা দিয়েই একবাক্যে বলবেন যে এখানকার রাস্তাঘাট অত্যন্ত উন্নত। অতীতের সেই গৌরবময় ‘সোনার বাংলা’ ফিরিয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

কেন্দ্রীয় সহায়তায় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের সড়ক ও পরিকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে আমরা কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করির কাছে সবরকম দরবার করব। রেলমন্ত্রী যেমন ১ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন, তেমনই প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় অনুদান এনে আমরা বাংলার মুখ বদলে দেব।”

প্রশাসনিক সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বার্তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন নতুন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “সবার আগে আমাদের একটি ভয়মুক্ত বাংলা প্রয়োজন। দুর্নীতির কোনো জায়গা এই প্রশাসনে থাকবে না। কীভাবে নিয়ম মেনে কাজ এগোবে, তার স্পষ্ট রূপরেখা আমরা তৈরি করে দেব।” এ সময় পূর্বতন সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আগে রাজ্যে একটাই পোস্ট ছিল, বাকিরা ল্যাম্পপোস্ট। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে।”

জল জীবন মিশন নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত পূর্ত দফতরের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের মন্ত্রী হিসেবে গ্রামীণ বাংলায় পানীয় জল প্রকল্পের বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। গত সরকারের আমলে ‘জল জীবন মিশন’ নিয়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, “সরকারি খাতায় কত বাড়িতে জল পৌঁছেছে দাবি করা হয়েছিল, আর বাস্তবে কত বাড়িতে তা পৌঁছেছে— তার পার্থক্য আমি নিজে গ্রাউন্ড জিরোতে গিয়ে খতিয়ে দেখব।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *