অস্ত্রোপচার না করেও স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে টাকা লোপাট! নদিয়ায় বন্ধ নার্সিংহোমে চলত ভয়ঙ্কর জালিয়াতি

অস্ত্রোপচার না করেও স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে টাকা লোপাট! নদিয়ায় বন্ধ নার্সিংহোমে চলত ভয়ঙ্কর জালিয়াতি

প্রতিবেদন:

করিমপুর: বাড়িতে দিব্যি সুস্থ বৃদ্ধ, কিন্তু ফোনের মেসেজে আসছে অস্ত্রোপচারের বিল! স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের অপব্যবহার করে সরকারি প্রকল্পের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নদিয়ার করিমপুরে তোলপাড়। প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি নার্সিংহোমে তল্লাশি চালিয়ে জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ধার করল পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে নার্সিংহোমের মালিক সেলিম মল্লিককে।

কীভাবে ফাঁস হলো জালিয়াতি? গত মঙ্গলবার তেহট্ট থানার বাসিন্দা ছাত্তার আলি নামে এক বৃদ্ধের ফোনে একটি মেসেজ আসে। তাতে জানানো হয়, তাঁর স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে অস্ত্রোপচারের খরচ বাবদ ১১,৫০০ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। অথচ ওই বৃদ্ধ তখন বাড়িতেই ছিলেন। সন্দেহ হওয়ায় তিনি করিমপুরের ‘সুরক্ষা নার্সিংহোম’-এ গিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে কৈফিয়ত চান। অভিযোগ, নার্সিংহোমের মালিক সেলিম মল্লিক তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং হুমকি দিয়ে বের করে দেন।

পুলিশি তল্লাশিতে মিলল প্রমাণ বৃদ্ধের অভিযোগের ভিত্তিতে নাজিরপুর পুলিশ ওই নার্সিংহোমে হানা দেয়। পুলিশ সূত্রে খবর, বাইরে থেকে প্রায় বন্ধ থাকলেও ভিতরে চলছিল রমরমা জালিয়াতি। অভিযানে প্রচুর স্বাস্থ্যসাথী কার্ড এবং বীমার নথি উদ্ধার হয়েছে। অবাক করা বিষয় হলো, নার্সিংহোমে কোনো রোগী ভর্তি না থাকলেও রোগীর রেজিস্টার খাতা ছিল নামধামে ভর্তি। মালিক সেলিম মল্লিককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

কী বলছেন স্থানীয়রা? স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই নার্সিংহোমটি প্রায় এক বছর ধরে কার্যত বন্ধ। রোগী ভর্তি না হলেও গোপনে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের তথ্য চুরি করে সরকারি টাকা লুঠ করাই ছিল মালিকের মূল লক্ষ্য। প্রতারিত বৃদ্ধ ছাত্তার আলি বলেন, “আমার অপারেশন হয়েছে বলে মেসেজ আসছে, অথচ আমি মাঠে কাজ করছি! আমরা গরিব মানুষ, এর উপযুক্ত শাস্তি চাই।”

এই চক্রের সঙ্গে স্বাস্থ্যদপ্তরের কোনো অসাধু কর্মী বা বড় কোনো চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *