মন্ত্রী হলেও ‘ভিআইপি’ তকমা না-পসন্দ শঙ্করের, শহরের রাস্তায় কি এবার স্কুটিতেই ঘুরবেন নতুন পর্যটন মন্ত্রী?

শিলিগুড়ি: মন্ত্রী হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের থেকে দূরত্ব তৈরি করতে একেবারেই রাজি নন রাজ্যের নতুন পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। মন্ত্রিত্বের লালবাতি গাড়ি বা নিরাপত্তারক্ষীদের কড়া ঘেরাটোপে বন্দি থাকতে চান না তিনি। বুধবার কলকাতা থেকে শিলিগুড়িতে ফিরে দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচির মাঝেই তাঁর এই ‘আমজনতা’ সুলভ আচরণে শোরগোল পড়ে গেছে রাজনৈতিক মহলে। এমনকি, শিলিগুড়ি শহরের চেনা রাস্তায় তিনি এবার স্কুটিতেই ঘুরে বেড়াবেন কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বুধবার শহরের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সময় নিজের নিরাপত্তারক্ষীদের চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন শঙ্কর ঘোষ। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আপনাদের অনুরোধ করছি, আপনারা চলে যান, বিশ্রাম নিন। আমাদের শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন কিছু খারাপ নয় যে আমাকে নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে ঘুরতে হবে।”
পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েও তিনি তাঁর এই অনড় মনোভাব স্পষ্ট করে দেন। মন্ত্রী সাফ জানান, “শহরের মধ্যে এভাবে নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বা বাতি লাগানো চার চাকার ভিআইপি গাড়িতে আমি ঘুরতে পারব না।” নিজের বিধানসভা এলাকা সম্পূর্ণ নিরাপদ বলেই মনে করেন তিনি।
রাজনৈতিক কেরিয়ারে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI) ও ডিওয়াইএফআই (DYFI)-এর দার্জিলিং জেলা সম্পাদক থেকে শুরু করে পুরসভার কাউন্সিলার ও মেয়র পারিষদ—দীর্ঘদিন রাজপথের লড়াই-আন্দোলন থেকেই উঠে এসেছেন প্রাক্তন এই বাম নেতা। এবার বিজেপির টিকিটে জিতে পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পরও নিজের সেই মাটির কাছাকাছি থাকার স্বভাব বদলাতে নারাজ তিনি। এর আগে শিলিগুড়ির গৌতম দেবও এই পর্যটন মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন।
এদিন কাজের রূপরেখা নিয়ে শঙ্কর ঘোষ বলেন, “আমাদের মন্ত্রিসভায় ‘আমি’ বা কোনো অহংকার বড় বিষয় নয়। মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন, মন্ত্রিসভার সহকর্মীরা আছেন, আর আছে রাজ্যের বহু মানুষের ভালোবাসা। সকলের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়েই পর্যটন ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব।”