যুদ্ধ শুরু! ট্রাম্পের হুমকির পরেই ইরানে আমেরিকার মিসাইল বৃষ্টি, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল তেহরান

যুদ্ধ শুরু! ট্রাম্পের হুমকির পরেই ইরানে আমেরিকার মিসাইল বৃষ্টি, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল তেহরান

ওয়াশিংটন ও তেহরান: আশঙ্কাটাই সত্যি হলো, মধ্যপ্রাচ্যে বেজে গেল যুদ্ধের দামামা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের একাধিক প্রান্তে ভয়াবহ হামলা শুরু করল আমেরিকান সেনা। পাল্টা মার দিতে তেহরানও নিশানা করেছে মার্কিন ঘাঁটি। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) সব ধরনের জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করেছে ইরান।

বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, সমঝোতা করতে দেরি করায় ইরানকে এবার ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে। সেই হুমকির রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার রাতে ইরানের ওপর মিসাইল ও যুদ্ধবিমান নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মার্কিন ফৌজ। আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, কমান্ডারের নির্দেশে ইরানের অন্যায্য আগ্রাসনের জবাবে এই ‘অতিরিক্ত আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালানো হয়েছে।

জানা গেছে, পশ্চিম তেহরান ছাড়াও কেশম ও হেঙ্গাম দ্বীপ, সিরিক, মিনাব, বন্দর আব্বাস, গোরগান এবং ফার্স প্রদেশে একযোগে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এমনকি সিরিক শহরের দুটি প্রধান জলাধারেও আঘাত হেনেছে মার্কিন মিসাইল, যার ফলে ওই এলাকায় তীব্র পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। তেল পরিবহনের চেষ্টাকারী একটি ইরানি ট্যাঙ্কারেও মার্কিন সেনা গুলি চালিয়েছে বলে খবর।

পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-ও। ইরানের দাবি, তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করা একটি মার্কিন এফ-১৬ (F-16) যুদ্ধবিমানকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে তাড়িয়ে দিয়েছে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।

আসলে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল আগের দিন, যখন হরমুজ প্রণালীর কাছে আমেরিকার একটি ‘অ্যাপাচে’ হেলিকপ্টার গুলি করে নামায় ইরান। এর জবাবে আমেরিকা পাল্টা ব্যবস্থা নিলে বাহরাইনে মোতায়েন মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে ড্রোন হামলা চালায় তেহরান। ট্রাম্পের নির্দেশ মূলত ছিল এই ড্রোন হামলারই পাল্টা জবাব।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে তীব্র যুদ্ধ চলছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইরানের সামরিক কমান্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের নৌযানের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো জাহাজ যাওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে সরাসরি উড়িয়ে দেওয়া হবে। এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড়সড় সংকটের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *