হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চরম ক্ষুব্ধ বিজেপি বিধায়ক, মই বেয়ে সোজা উঠে গেলেন ছাদে!

হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চরম ক্ষুব্ধ বিজেপি বিধায়ক, মই বেয়ে সোজা উঠে গেলেন ছাদে!

হুগলি: হাসপাতালের একের পর এক অনিয়ম আর গাফিলতি দেখে মেজাজ হারালেন বিধায়ক। শেষমেশ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নিজেই মই বেয়ে উঠে পড়লেন হাসপাতালের ছাদে! হুগলি জেলার পাণ্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে এমনই এক নজিরবিহীন কাণ্ড ঘটালেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক তুষার কুমার মজুমদার।

বুধবার পাণ্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে আচমকা হাজির হন বিধায়ক। কিন্তু সেখানে গিয়ে রোগীদের পরিষেবা এবং হাসপাতালের সার্বিক দশা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। হাসপাতাল চত্বরে একটি নতুন যাত্রী প্রতীক্ষালয় (ওয়েটিং রুম) তৈরি হচ্ছে, তা পরিদর্শন করেই প্রথম বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন তুষারবাবু। তাঁর দাবি, সরকারি টাকা খরচ করে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে এই প্রতীক্ষালয়টি তৈরি করা হচ্ছে।

এরপর হাসপাতালের রান্নাঘরে (ডায়েট সেল) গিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিধায়ক। রোগীদের জন্য যে খাবার তৈরি হচ্ছিল, তার গুণমান ছিল অত্যন্ত খারাপ ও পুষ্টিহীন। তুষারবাবু স্পষ্ট জানান, “রোগীদের স্বাস্থ্য নিয়ে এই ধরনের ছিনিমিনি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” পুরো বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কড়া জবাবদিহি চেয়েছেন তিনি। দ্রুত পরিস্থিতি না শুধরালে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে জানানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিধায়ক। পরিদর্শন চলাকালীনই আচমকা একটি মই বেয়ে হাসপাতালের ছাদে উঠে পড়েন তিনি এবং সেখানে কর্মরত কর্মীদের সাথেও কথা বলেন।

অন্যদিকে, বিধায়কের এই ক্ষোভের জবাবে পাণ্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালের বিএমওএইচ ড. মঞ্জুর আলম নিজের অসহায়তার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, রোগীদের খাবারের মান নিয়ে এর আগেও অভিযোগ এসেছে। তবে সারা দিনে একজন রোগীর খাবারের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৫৫ টাকা! বরাদ্দ বাড়লে খাবারের মানও ভালো হবে বলে রাঁধুনিরা জানিয়েছেন। পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে বিএমওএইচ জানান, জেলা পরিষদের তৈরি করা জলছত্রটি বিকল হয়ে রয়েছে। মাটির নিচে জলের স্তর নেমে যাওয়ার কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *