ওমান উপকূলে ট্যাঙ্কারে হামলা, ৩ ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ! মার্কিন দূতকে তলব করে কড়া বার্তা দিল্লির

নয়া দিল্লি: ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যিক তেল ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ হামলার পর নিখোঁজ হয়ে গেছেন ৩ জন ভারতীয় নাবিক। এই নজিরবিহীন ঘটনায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স জেসন মিক্সকে তলব করে কড়া বার্তা দিয়েছে। আমেরিকার মূল রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এই মুহূর্তে দিল্লিতে না থাকায় তাঁর ডেপুটিকে তলব করা হয়। তবে কূটনৈতিক সূত্র মারফত জানা গেছে, এক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক ‘ডিমার্চ’ বা লিখিত কূটনৈতিক পত্র দেওয়া হয়নি।
ওমান উপকূলের কাছে আক্রান্ত হওয়া ওই বাণিজ্যিক জাহাজটির নাম ‘সেত্তেবেল্লো’ (Settebello)। ভারত সরকার এই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানালেও সরকারি বিবৃতিতে কোনো দেশের নাম স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক মহল সূত্রে খবর, ইরানের বন্দরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ এড়ানোর চেষ্টা করছিল ওই ট্যাঙ্কারটি। আর সেই অভিযোগেই মার্কিন বাহিনী জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায়।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা ওমান উপকূলের কাছে বাণিজ্যিক জাহাজ সেত্তেবেল্লোতে হামলার তীব্র নিন্দা করছি। জাহাজে থাকা মোট ২৪ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ২১ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, এখনো ৩ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন।” ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং নিখোঁজ নাবিকদের খুঁজে বের করতে ওমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ায় একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই ধরণের আক্রমণকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে নয়াদিল্লি। অবিলম্বে এই অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, “বাণিজ্যিক জাহাজ এবং অসামরিক পরিকাঠামোর ওপর এই হামলা দ্রুত বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধে নৌচলাচল ও বাণিজ্য ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধার করা জরুরি।”
এর আগে, ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (UKMTO) প্রথম জানায় যে, ওমানের সোহর বন্দরের কাছে ‘সেত্তেবেল্লো’ জাহাজের ইঞ্জিন রুমে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। ব্রিটিশ মেরিটাইম রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ ‘ভ্যানগার্ড’ জানিয়েছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পরই ট্যাঙ্কারটি থেকে সাহায্যের জন্য বিপদসংকেত (SOS) পাঠানো হয়েছিল, যার জবাবে দ্রুত উদ্ধারকাজে নামে ওমান নৌবাহিনী।