মিশে যাওয়া নয়, বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বস্তরে জোটের পথে তৃণমূল ও কংগ্রেস!

নয়াদিল্লিতে পরপর দুই দিন কংগ্রেস ও তৃণমূল শীর্ষনেতৃত্বের বৈঠকের পর জাতীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। তৃণমূল কংগ্রেসে মিশে যেতে পারে বলে যে জল্পনা ছড়িয়েছিল, তা নস্যাৎ করেছে দুই দলই। তবে দলভিত্তিক সংযুক্তি বা সরাসরি যোগ না হলেও, আগামী দিনে দুই দলের হাত ধরাধরি করে চলার স্পষ্ট বার্তা মিলেছে।
লক্ষ্য বিরোধী ভোট ঐক্যবদ্ধ করা
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ভোটকে একত্রিত করাই তৃণমূলের প্রধান লক্ষ্য। রাজনৈতিক মহলের মতে, সিপিএম কার্যত কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করায় জোটের পথের পুরনো বাধাগুলিও দূর হয়েছে। এই কারণেই কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে তৃণমূল শিবির। মঙ্গলবার ১০ জনপথে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক এবং বুধবার রাহুল গান্ধীর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় দেড় ঘণ্টার আলোচনা সেই ইঙ্গিতই দেয়। এই জোড়া বৈঠকে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে খবর।
কংগ্রেসের জরুরি বৈঠক এবং সম্ভাব্য প্রভাব
এই নতুন সমীকরণের প্রভাব পড়তে পারে রাজ্যের আসন্ন পুরসভা, পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়ে। সব ঠিক থাকলে আগামী দিনে সর্বস্তরেই সমঝোতার পথে হাঁটতে পারে কংগ্রেস ও তৃণমূল। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির ইন্দিরা ভবনে সমস্ত রাজ্যের প্রদেশ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। মাত্র একদিনের নোটিসে ডাকা এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। মনে করা হচ্ছে, তৃণমূলের সঙ্গে এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ এবং বড় কোনও সিদ্ধান্তের বিষয়েই দলের নেতাদের অবহিত করতে চাইছে কংগ্রেস শীর্ষনেতৃত্ব।