বাসর রাতেই বড় সত্যের মুখোমুখি স্বামী! কনে ‘মেয়ে’ নয়, স্ত্রীর আসল রূপ ফাঁস হতেই তুলকালাম

মুজাফফরনগর: বাসর রাতেই লুকিয়ে থাকা এক বড় সত্যের মুখোমুখি হলেন স্বামী। বিয়ের পর প্রথম রাতেই শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে অস্বীকার করেন নববধূ। আর তা নিয়েই শুরু হয় সন্দেহ। শেষ পর্যন্ত স্বামীর চাঞ্চল্যকর দাবি— তাঁর স্ত্রী আসলে কোনো নারী নন, তিনি একজন ‘রূপান্তরকামী’ (হিজড়া)! উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী যুবক অনুকূল কুচ্ছল পেশায় একটি সঙ্গীত কেন্দ্রের সঞ্চালক। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে, আদালতের নির্দেশে ব্যবসায়ী নেতা সঞ্জয় মিত্তল সহ মোট নয়জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
কী ঘটেছিল আসলে?
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ব্যবসায়ী নেতা সঞ্জয় মিত্তল একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্তের মাধ্যমে কোনো রকম যৌতুক ছাড়াই তাঁর গাড়িচালকের মেয়ের সঙ্গে অনুকূলের বিয়ে ঠিক করেন। জলদি বিয়ে করার জন্য চাপ দেওয়ায় প্রথমে তাঁরা কোর্ট ম্যারেজ এবং পরে সামাজিকভাবে ধুমধাম করে বিয়ে করেন।
বাসর রাতেই ফাঁস হলো রহস্য:
বিয়ের পর প্রথম রাতে স্ত্রী শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। অনুকূলের সন্দেহ হওয়ায় তিনি স্ত্রীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি রাজি হননি। পরবর্তীকালে জোর করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলেও মেডিকেল টেস্ট করাতে অস্বীকার করেন ওই তরুণী। তিনি নিজেই স্বীকার করেন যে, তিনি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ নারী নন।
এরপর পারিবারিক চাপের মুখে ওই তরুণী বাপের বাড়ি চলে যান। অভিযোগ, কিছুদিন পর বোনকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গালিগালাজ করে লক্ষাধিক টাকার গয়নাগাটি নিয়ে চম্পট দেন তিনি। এই ঘটনার পর অনুকূল আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তাঁদের ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন বাতিল করান।
এদিকে ওই নারীও ফ্যামিলি কোর্টে শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তবে স্বামীর স্পষ্ট দাবি, তাঁর স্ত্রী আসলে নারী নন, একজন রূপান্তরকামী। শুধু তাই নয়, সঞ্জয় মিত্তল সহ বেশ কয়েকজন তাঁকে আটকে রেখে হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতা সঞ্জয় মিত্তল সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং আদালতে নিজেদের বক্তব্য পেশ করবেন বলে জানিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে নাই মাণ্ডি কোতোয়ালি থানার পুলিশ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।