তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে সরব কংগ্রেস, উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের রাজনীতি!

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মুর্শিদাবাদের লালবাগের পাঁচরাহা মোড়ে এক অভিনব রাজনৈতিক বিক্ষোভ দেখা গেল। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের বিদ্রোহের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাজপথে নেমেছে জাতীয় কংগ্রেস। মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ আবু তাহের খান, বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান এবং জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে সখ্যতা তৈরির অভিযোগ তুলে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি সংগঠিত করা হয়।
তৃণমূলের ভাঙন এবং কংগ্রেসের নতুন রণকৌশল
রাজ্যে শাসকদলের বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে চরম ফাটল দেখা দিয়েছে। লোকসভায় দলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ১৯ জন আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন। এই ভাঙনের ফলে বিরোধী শিবিরে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সিপিআইএম ও কংগ্রেস। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে বৈঠক করায় তৃণমূলের কংগ্রেসে ফেরার জল্পনা জোরালো হয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের বিজেপির প্রতি নরম মনোভাবের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের এই আন্দোলন রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা
কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলার ৭০ শতাংশ ভোটার যে আশা ও বিশ্বাস নিয়ে এই সাংসদদের সংসদে পাঠিয়েছিলেন, তাঁরা তা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। নিজেদের কৃতকর্ম ঢাকতেই এই সাংসদরা এখন বিজেপির হাত ধরার চেষ্টা করছেন, যা সাধারণ মানুষের রায়ের চরম অবমাননা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্দোলনের মাধ্যমে কংগ্রেস মূলত মুর্শিদাবাদের হারিয়ে যাওয়া সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। তৃণমূলের এই নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ভাঙন যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে আগামী দিনে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে কংগ্রেস ও বামপন্থীদের অবস্থান আরও সুসংহত হতে পারে।