তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন, শত্রুঘ্ন ও ইউসুফ পাঠানসহ ১৯ সাংসদের বিদ্রোহ!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এক গভীর রাজনৈতিক সংকটের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। বিধানসভার বিধায়কদের পর এবার ক্রমবর্ধমান সংখ্যক সাংসদও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। অভিনেতা-রাজনীতিবিদ শত্রুঘ্ন সিনহা এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান সহ মোট ১৯ জন লোকসভা সাংসদ লোকসভার স্পিকারের কাছে একটি স্বাক্ষরিত চিঠি জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই চাঞ্চল্যকর তালিকা প্রকাশের ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকা ও দলীয় সংকট
ফাঁস হওয়া এই তালিকায় রয়েছেন একাধিক হেভিওয়েট জনপ্রতিনিধি। বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় নাম রয়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়া, খলিলুর রহমান, ইউসুফ পাঠান, আবু তাহির খান, পার্থ ভৌমিক, বাপি হালদার, সায়নী ঘোষ, মালা রায়, মিতালি বাগ, দীপক অধিকারী, কালীপদ সরেন, জুন মালিয়া, অরূপ চক্রবর্তী, ড. শর্মিলা সরকার, শত্রুঘ্ন সিনহা, অসিত কুমার মাল, শতাব্দী রায় এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
রাজ্যসভায় পদত্যাগ ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব
লোকসভার পাশাপাশি উচ্চকক্ষেও বড় ধাক্কা খেয়েছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের সবচেয়ে প্রবীণ রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় এবং পরবর্তীতে সুস্মিতা দেব দল ও সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। রাজ্যসভা সচিবালয় সুস্মিতা দেবের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে। এদিকে বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাদের পক্ষে বর্তমানে ৬৪ জন বিধায়ক অবস্থান করছেন এবং তারাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দলের অন্দরের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং শীর্ষ নেতৃত্বের কার্যপদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধই এই বিদ্রোহের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ২৮ বছরের পুরনো এই রাজনৈতিক দলটিতে এই ঘটনাকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিদ্রোহী শিবির যদি তাদের দাবির পক্ষে অনড় থাকে এবং বিধায়ক ও সাংসদদের এই দলবদল আইনগত বৈধতা পায়, তবে তা রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্ব ও আধিপত্যের মূলে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।