ফর্ম ফিল-আপে একটা ভুলেই কি বাতিল হবে অন্নপূর্ণার ৩০০০ টাকা? জেনে নিন আসল নিয়ম

কলকাতা: রাজ্যজুড়ে নারীদের স্বাবলম্বী করতে জোরকদমে চলছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ যোজনার আবেদন প্রক্রিয়া। ইতিমধ্যেই বহু মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছে ৩ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্য। অফলাইন ও অনলাইন—উভয় মাধ্যমেই নতুন আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে ফর্ম পূরণের সময় অনেক ক্ষেত্রেই নানা ছোটখাটো ভুলভ্রান্তি হচ্ছে আবেদনকারীদের। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সামান্য ভুলের কারণে কি নাম বাতিল হয়ে যাবে, নাকি সংশোধনের সুযোগ মিলবে? এই বিষয়ে জরুরি তথ্য দিল প্রশাসন।
ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ কোথায়?
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুল সংশোধনের বিষয়টি নির্ভর করছে আপনি কীভাবে আবেদন করছেন তার ওপর:
- অফলাইন আবেদন: অফলাইনে জমা দেওয়া ফর্মে কোনও ভুল থাকলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তা সংশোধন করার সুযোগ মিলতে পারে। প্রয়োজনে ভুল অংশ কেটে সংশোধন করে পুনরায় আপলোড বা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে।
- অনলাইন আবেদন: অনলাইনের ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেক বেশি সংবেদনশীল। একবার ভুল তথ্য জমা পড়ে গেলে পরবর্তীতে তা সংশোধনের সুযোগ নাও মিলতে পারে। তাই সাবমিট করার আগে প্রতিটি তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
বিশেষ সতর্কতা: বিশেষ করে আয় সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আবেদনপত্রের শেষে একটি ঘোষণাপত্র রয়েছে, যেখানে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে স্বাক্ষর করলে ভবিষ্যতে আবেদন বাতিল হওয়ার পাশাপাশি আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে।
আবেদনপত্রে কোন কোন তথ্য দিতে হবে?
অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিল-আপের সময় নিম্নলিখিত তথ্য ও নথিগুলি সঠিকভাবে জমা দিতে হবে:
১. পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, লিঙ্গ, পরিচয়পত্র (যেমন আধার, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড) এবং ডিজিটাল রেশন কার্ডের তথ্য।
২. পরিবারের সদস্য সংখ্যা, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মসংস্থান এবং যোগাযোগের নম্বর।
৩. প্রত্যেক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ ও জাতিগত পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য।
৪. বাসস্থানের ধরন, জমির মালিকানা, যানবাহন, আয়কর এবং স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত তথ্য।
৫. পরিবার কোনও জিএসটি-নিবন্ধিত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কি না বা পরিবারের কেউ সরকারি পেনশনভোগী বা রাজনৈতিক পদাধিকারী কি না, তার বিবরণ।
৬. সিএএ (CAA) বা অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী সংক্রান্ত তথ্য এবং শিশুদের বিদ্যালয়ের ও টিকাকরণের বিবরণ।
আবেদন বাতিল হলে জানা যাবে কারণ
প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, স্ক্রুটিনি বা যাচাই-বাছাইয়ের পর যদি কোনও আবেদন বাতিল হয়, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে তার সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করতে হবে। এর ফলে আবেদনকারীরা সহজেই জানতে পারবেন ঠিক কী কারণে তাঁদের আবেদনটি গ্রাহ্য হয়নি।
আগামী তিন মাসের মধ্যে রাজ্য সরকার এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো এড়িয়ে সমস্ত নথি ও তথ্য খুঁটিয়ে দেখে তবেই ফর্ম জমা দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল।