প্রতিবাদেও ‘ডিম থেরাপি’! এক ধাক্কায় সাড়ে ৭ টাকা ছুলো ডিমের দাম

কলকাতা: রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে ইদানীং প্রতিবাদের এক নতুন ভাষা হয়ে উঠেছে ‘ডিম থেরাপি’। আর এই রাজনৈতিক আবহের মাঝেই আমজনতার পকেটে টান মেরে হু হু করে বাড়ছে ডিমের দাম। কিছুদিন আগেও খুচরো বাজারে যে ডিম মিলত ৬ টাকায়, তা এখন অনেক জায়গাতেই সাড়ে ৭ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। ফলে রোজকার খাবারের পাতে ডিম রাখতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন মধ্যবিত্তরা।
ভোটের বাজারে মাছ-মাংস নিয়ে চর্চা হলেও ডিম ছিল কার্যত আড়ালে। কিন্তু ভোট মিটতেই বদলে গেছে সমীকরণ। নেতা-মন্ত্রীদের লক্ষ্য করে কোথাও টাটকা, আবার কোথাও পচা ডিম ছোড়ার হিড়িক পড়েছে। রাজনৈতিক প্রতিবাদের এই নয়া হাতিয়ারের কারণে বাজারে ডিমের ‘ডিমান্ড’ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এমনকি কিছু কিছু এলাকায় প্রতিবাদে ব্যবহারের জন্য পচা ডিমের চাহিদাও বাড়ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
তবে রাজনীতির মাঠে ডিমের কদর বাড়লেও, ব্যবসায়ীদের দাবি— দাম বাড়ার আসল কারণ অন্য। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পোলট্রি ফেডারেশন’-এর অন্যতম কর্তা তথা ‘ন্যাশনাল এগ কো-অর্ডিনেশন কমিটি’র রাজ্য চেয়ারম্যান মদনমোহন মাইতি জানিয়েছেন, গত এক মাসে পশুখাদ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। বিশেষ করে সয়াবিন খোলের দাম ৪১-৪২ টাকা থেকে এক ধাক্কায় বেড়ে ৭৮ টাকা হয়েছে। এছাড়া বাদাম, সূর্যমুখী ও তিলের খোলের দামও চড়া। ফলে পোলট্রি খামারগুলির উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, কিছুদিন আগেও ৩০টি ডিমের একটি ট্রে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত, যা এখন ২০০ টাকার কাছাকাছি। উৎপাদন খরচ সামাল দিতেই দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না খামার মালিকদের। একদিকে তীব্র গরমে ডিমের আকার কিছুটা ছোট হয়ে যাওয়া, আর অন্যদিকে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি— দুইয়ে মিলে আমজনতার হেঁশেলে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে।