সাইবার প্রতারণায় খোয়ানো টাকা এবার মিলবে সহজেই! মোদী সরকারের নতুন পোর্টালে ঘরে বসেই করুন আবেদন

সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়ে কষ্টার্জিত টাকা খুইয়েছেন? এবার সেই টাকা ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়াকে জলভাত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। জালিয়াতির শিকার ভুক্তভোগীদের আর পুলিশ স্টেশন বা ব্যাঙ্কের চক্কর কাটতে হবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা ‘ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’ (I4C) জাতীয় সাইবার অপরাধ রিপোর্টিং পোর্টাল (NCRP)-এর আওতায় চালু করেছে ‘মানি রেস্টোরেশন মডিউল’ (Money Restoration Module বা MRM)। এই অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতারিত ব্যক্তিরা মাত্র কয়েক মিনিটেই নিজেদের টাকা ফেরতের আবেদন জানাতে পারবেন।
কারা পাবেন এই বিশেষ সুবিধা?
টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হলে কয়েকটি জরুরি শর্ত পূরণ করতে হবে:
- আপনাকে অবশ্যই জাতীয় সাইবার অপরাধ পোর্টাল বা ১৯৩০ হেল্পলাইন নম্বরে আগেই অভিযোগ দায়ের করতে হবে।
- অভিযোগ দায়েরের পর পাওয়া ১৪ সংখ্যার রেজিস্টার্ড অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বর (Acknowledgement Number) থাকতে হবে।
- তদন্তের সময় পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থা যদি প্রতারকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা আপনার টাকাটি (আংশিক বা সম্পূর্ণ) ফ্রিজ় বা লক করে রাখতে পারে, তবেই এই পদ্ধতিতে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।
কীভাবে ঘরে বসে আবেদন করবেন? (ধাপে ধাপে পদ্ধতি)
১) প্রথমে সরকারের নতুন MRM পোর্টালে যান।
২) সাইবার অপরাধ পোর্টালে নথিভুক্ত আপনার মোবাইল নম্বরটি দিয়ে OTP ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে লগ-ইন করুন।
৩) এবার আপনার ১৪ সংখ্যার Complaint ID বা অভিযোগ নম্বরটি দিন এবং পুনরায় OTP দিয়ে যাচাই করুন।
৪) তথ্য যাচাই হতেই তদন্তের সময় ফ্রিজ় হওয়া আপনার টাকার পরিমাণ স্ক্রিনে ভেসে উঠবে।
৫) এরপর আপনার PAN কার্ডের তথ্য আপলোড করুন।
৬) যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ফেরত চান, তার অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং IFSC কোড সতর্কতার সাথে লিখুন।
৭) সবশেষে ডিক্লেয়ারেশন বা ঘোষণাপত্রটি স্বীকার করে আবেদন সাবমিট করে দিন।
জরুরি নোট: আবেদন সফল হলে একটি ইউনিক ‘Request ID’ (যা মূলত MR2026 দিয়ে শুরু হবে) তৈরি হবে। এটি দিয়ে আপনি পরবর্তীতে আবেদনের স্টেটাস ট্র্যাক করতে পারবেন।
টাকা কীভাবে অ্যাকাউন্টে আসবে?
আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। আইনি প্রক্রিয়া মেনে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ (BNSS)-এর ১০৬(৩) ধারার অধীনে প্রয়োজনীয় বন্ড বা নোটিস পোর্টালে আপলোড করা হবে। আইনি সবুজ সংকেত মিললেই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক সরাসরি প্রতারিত ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা রিফান্ড বা ফেরত পাঠিয়ে দেবে।
নতুন এই ব্যবস্থার বড় সুবিধা কী?
আগে খোয়ানো টাকা ফেরত পেতে ভুক্তভোগীদের মাসের পর মাস পুলিশ স্টেশন, সরকারি দপ্তর আর ব্যাঙ্কে ঘুরে জুতো ক্ষয় করতে হতো। নতুন এই অনলাইন পোর্টাল আসায় পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং দ্রুতগতির হবে। ফলে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই বড়সড় আর্থিক স্বস্তি পাবেন। তবে মনে রাখবেন, সাইবার জালিয়াতির শিকার হলে যত দ্রুত সম্ভব ১৯৩০ নম্বরে ফোন করা বা NCRP পোর্টালে অভিযোগ জানানো জরুরি, যাতে প্রতারকের অ্যাকাউন্টে টাকাটি দ্রুত ফ্রিজ় করা যায়।