আইনি লড়াইয়ের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস, আসল দল কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হবে?
রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে ভাঙনের দোরগোড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরের বিদ্রোহী অংশ এবার আইনি পথে হেঁটে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় সংবিধান অমান্য করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে একতরফা ভূমিকার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা। ইতিমধ্যেই দলের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী ও অসাংবিধানিক পদক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
বিদ্রোহী শিবিরের রণকৌশল ও সমীকরণ
তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের পরিস্থিতি অনেকটা অতীতে শিবসেনা বা লোক জনশক্তি পার্টির রাজনৈতিক ভাঙনের ঘটনার সঙ্গে তুলনীয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিদ্রোহী গোষ্ঠী যদি আইনি লড়াইয়ে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারে, তবে অন্য কোনো দলে যোগ না দিয়েই তারা পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করতে পারে। বিদ্রোহী সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। পরিষদীয় দলের একটি বড় অংশের সমর্থন নিজেদের দিকে রয়েছে বলে দাবি করে বিদ্রোহী নেতারা এখন নির্বাচন কমিশনের দরজায় কড়া নাড়ছেন।
প্রতীক দখলের আইনি প্রক্রিয়া
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক দাবি করতে হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে দলের বিধায়ক, সাংসদ এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারীদের সিংহভাগের সমর্থন প্রমাণ করতে হয়। যদি বিদ্রোহী শিবির প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণসহ নির্বাচন কমিশনে আবেদন করতে সক্ষম হয়, তবে দলের নাম, প্রতীক এবং ব্যাংক তহবিলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হবে। সেক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল অংশকে নতুন নামে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হতে পারে। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই পরিস্থিতির বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এখন মমতা শিবিরের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।