ফাইনালের টিকিট ৩৩ লাখে! বিশ্বকাপের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে মুখ খুললেন ফিফা প্রেসিডেন্ট

ফাইনালের টিকিট ৩৩ লাখে! বিশ্বকাপের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে মুখ খুললেন ফিফা প্রেসিডেন্ট

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের ক্ষোভ এখন চরমে। বিশেষ করে ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম যেভাবে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে, তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অবশেষে এই টিকিট বিতর্ক নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন ফিফা (FIFA) প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তাঁর সাফ কথা, বর্তমান বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী টিকিটের এই দাম মোটেও অস্বাভাবিক নয়।

কেন এই তুমুল বিতর্ক?

চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচের টিকিটের দাম ১৪০ ডলার থেকে শুরু হলেও, আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্কে হতে চলা ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম সাধারণের পকেট কাটার জোগাড় করেছে। ফাইনালের সাধারণ আসনের টিকিটের দাম প্রথমে বেড়ে ১০,৯৯০ ডলার এবং পরে একলাফে আকাশ ছুঁয়ে ৩২,৯৭০ ডলারে (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা) পৌঁছে যায়। এমনকি ভিআইপি গেস্ট প্যাকেজের সর্বোচ্চ দাম রাখা হয়েছে ৭৩,২০০ ডলার (প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা)।

এই বিপুল মূল্যবৃদ্ধির জেরে সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ালে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে ফিফা। বিভিন্ন দেশের ফুটবল সংস্থার মাধ্যমে মাত্র ৬০ ডলারে বিশেষ টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়। ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টিকিট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কালোবাজারি রুখতেই কি এই চড়া দাম? ফিফার অদ্ভুত যুক্তি

টিকিটের চড়া দামের পক্ষে সওয়াল করে ফিফা প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা যদি টিকিটের দাম কম রাখতাম, তবে একদল লোক সেই টিকিট কম দামে কিনে পরে চড়া দামে কালোবাজারি করত। এতে ফুটবলের কোনো লাভ হতো না, মাঝখান থেকে লাভবান হতো কালোবাজারিরা।” তিনি আরও দাবি করেন, পুরো টুর্নামেন্টের টিকিটের গড় মূল্য ৫০০ ডলারের নিচেই রয়েছে, যা আমেরিকার অন্যান্য বড় খেলার নকআউট ম্যাচের তুলনায় খুব বেশি নয়।

টিকিট বিক্রি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ ইয়র্ক বা টেক্সাসের মতো রাজ্যগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়াকেও স্বাগত জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। তাঁর দাবি, ফিফা সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে এবং আইনি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই টিকিট বিক্রি করছে।

সোমালি রেফারিকে এন্ট্রি দিল না আমেরিকা!

টিকিট বিতর্কের পাশাপাশি এদিন বিশ্বকাপে প্রথম সোমালি রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পেতে চলা ওমর আরতানকে নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিয়েও কথা বলেন ইনফান্তিনো। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই আরতানকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয় মার্কিন প্রশাসন। এই বিষয়ে ফিফা প্রেসিডেন্ট কিছুটা অসহায়তা প্রকাশ করে বলেন, “নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশ বদলানোর ক্ষমতা ফিফার নেই। তবে আমরা পর্দার আড়ালে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছি।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *