ফুলশয্যার রাতেই ফাঁস বরের ‘নপুংসকতা’! মুখ বন্ধ রাখতে নববধূকে কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানি ভাসুরের

কানপুর: বিয়ের প্রথম রাতেই ওলটপালট হয়ে গেল এক তরুণীর জীবন। ফুলশয্যার রাতেই স্বামীর শারীরিক অক্ষমতা (নপুংসকতা) জানতে পেরেছিলেন স্ত্রী। আর সেই গোপন সত্য আড়াল করতে নতুন বউয়ের ওপর চলল চরম অত্যাচার। মুখ বন্ধ রাখার জন্য খোদ ভাসুরই তাঁকে কুপ্রস্তাব দিল এবং একা পেয়ে শ্লীলতাহানি করল! চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে। শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই নির্যাতিতা তরুণী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মার্চ মাসে কানপুরের রাওয়াতপুরের বাসিন্দা ওই তরুণীর সাথে উন্নাওয়ের এক যুবকের বিয়ে হয়েছিল। তরুণীর অভিযোগ, বিয়ের প্রথম রাতেই তিনি জানতে পারেন তাঁর স্বামী পুরুষত্বহীন। পরের দিনই তিনি বিষয়টি তাঁর জা ও ভাসুরকে জানান। কিন্তু সত্য জানার পর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা সমবেদনা জানানো তো দূর অস্ত, উল্টে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তরুণীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।
তরুণীর দাবি, তিনি যখন স্বামীর চিকিৎসার কথা বলেন, তখন স্বামী, ভাসুর ও জা মিলে তাঁকে গালিগালাজ এবং মারধর করে। এরপর একদিন বাড়িতে একা থাকার সুযোগে ভাসুর তাঁর শ্লীলতাহানি করে এবং জোরজুলুম করার চেষ্টা করে। শুধু তাই নয়, বাপের বাড়ি থেকে আরও ২ লক্ষ টাকা পন এনে দেওয়ার জন্য তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হয়। গহনা কেড়ে নিয়ে গত ৯ মার্চ তাঁকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনায় নয়া মোড় আসে গত ৩০ জুন। স্বামী অসুস্থ জানতে পেরে ওই তরুণী বাপের বাড়ির লোকজনদের সাথে নিয়ে তাঁকে দেখতে যান। অভিযোগ, সেখানে পৌঁছাতেই স্বামী এবং ভাসুর মিলে তরুণীর মুখ চেপে ধরে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করার চেষ্টা করে। কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে রাওয়াতপুর থানার দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা। থানার ইনচার্জ কে কে মিশ্র জানিয়েছেন, তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।