মমতার হাত থেকে কি তবে ফসকে গেল তৃণমূল!
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/05/05/E5cTJ0Fg2guIZ5eV6dz2.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
লোকসভা নির্বাচনের পরপরই পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে এক অভূতপূর্ব বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়েছে। বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন, তাঁদের পক্ষে ২০ জন সাংসদ রয়েছেন এবং এনডিএ-র সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁরাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে দল ও প্রতীক কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের নির্বাচন কমিশন।
মহারাষ্ট্রের ছায়া এবার বাংলার রাজনীতিতে
মহারাষ্ট্র বিধানসভার স্পিকার এবং নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নজির টেনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শিবসেনার মতো বাংলার শাসক দলেও বড় ধরনের ভাঙন সময়ের অপেক্ষা। উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকে যেভাবে দল ও প্রতীক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একনাথ শিন্ডের হাতে চলে গিয়েছিল, এক্ষেত্রেও রাজ্যের রাজনীতিতে সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। কাকলি ঘোষ দস্তিদার স্পষ্ট করেছেন, নির্বাচন কমিশনই নির্ধারণ করবে প্রকৃত তৃণমূল কারা এবং সেই অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ হবে।
দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা নাকি ভোটের ফল বিপর্যয়
অনেকের ধারণা ছিল, সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভরাডুবির কারণেই এই দলবদল বা বিদ্রোহের সূত্রপাত। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিদ্রোহী সাংসদ। তাঁর দাবি, এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার এই পরিকল্পনা রাতারাতি হয়নি, বরং এর পেছনে দুই বছরের দীর্ঘ প্রস্তুতি ছিল। দীর্ঘ ৪০ বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকার পরও রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে এই দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সঙ্গে নেই এবং তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সম্ভাব্য প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী হতে পারে। নির্বাচন কমিশন যদি কাকলিদের ২০ জন সাংসদের দাবিকে মান্যতা দেয়, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশটি তাদের পরিচিত নাম এবং ঘাসফুল প্রতীক হারাতে পারে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে শাসক শিবলকে নতুন করে অস্তিত্বের লড়াইয়ে নামতে হবে এবং রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণ এক নতুন মেরুকরণের দিকে এগোবে।