ডায়াবেটিসে আম খাওয়া কি বিপজ্জনক? জেনে নিন সঠিক নিয়ম

ডায়াবেটিসে আম খাওয়া কি বিপজ্জনক? জেনে নিন সঠিক নিয়ম

গ্রীষ্মকাল মানেই ফলের রাজা আমের রসালো স্বাদে মজে থাকা। তবে এই মৌসুমে ডায়াবেটিস রোগীদের মনে প্রায়ই আতঙ্ক কাজ করে, আম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাবে কিনা। আমে প্রাকৃতিক শর্করা এবং কার্বোহাইড্রেট থাকায় এই উদ্বেগ অমূলক নয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা আম পুরোপুরি বর্জন না করে বরং কিছু কৌশল অবলম্বন করে পরিমিত পরিমাণে এটি উপভোগ করতে পারেন।

ডায়াবেটিস রোগীর আম খাওয়ার নিরাপদ উপায়

ডায়েটিশিয়ান কামিনী সিনহার তথ্য অনুযায়ী, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ডায়াবেটিস রোগীরাও দৈনিক একটি আম বা প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত আম খেতে পারেন। তবে যাদের সুগার লেভেল প্রায়ই ওঠানামা করে বা সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত, তাদের আম না খাওয়াই ভালো। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খালি পেটে আম খাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, সবসময় প্রধান খাবার শেষ করার পর আম খাওয়া উচিত। ভরা পেটে ফলটি খেলে শরীরে শর্করার শোষণ প্রক্রিয়া ধীর হয়, যা রক্তে সুগার হুট করে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

সতর্কতা ও সঠিক নির্বাচন

রোগীদের আমের রস বা জুস পানের অভ্যাস পুরোপুরি পরিহার করতে হবে। এর বদলে আম সবসময় ছোট ছোট টুকরো করে খাওয়া শ্রেয়। আমের সঙ্গে টক দই বা কাঠবাদামের মতো প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যুক্ত করলে তা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। অতিরিক্ত পাকা আমে শর্করার ঘনত্ব বেশি থাকে, তাই মাঝারি পাকা আম বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যেহেতু প্রতিটি মানুষের শরীর ও বিপাকক্রিয়া আলাদা, তাই খাদ্যতালিকায় এ ধরনের পরিবর্তন আনার আগে নিয়মিত ব্লাড সুগার পর্যবেক্ষণ করা এবং একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *