‘খারাপ সময়ে দিদিকে ছাড়ব না!’ দলবদল ও সই-জল্পনা উড়িয়ে গর্জে উঠলেন শত্রুঘ্ন সিনহা

‘খারাপ সময়ে দিদিকে ছাড়ব না!’ দলবদল ও সই-জল্পনা উড়িয়ে গর্জে উঠলেন শত্রুঘ্ন সিনহা

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে ময়দানে নামলেন আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। ‘বিহারী বাবু’ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি মমতাদির সাথেই আছেন এবং দল ছাড়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

সম্প্রতি তৃণমূলের বেশ কয়েকজন লোকসভা সাংসদ দলনেত্রীর নেতৃত্বকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথা জানানো ওই চিঠিতে শত্রুঘ্ন সিনহাও সই করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন ছড়ায়। এর মাঝেই বুধবার মোদী সরকারের এক যুগ (১২ বছর) পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান শত্রুঘ্ন, যা তাঁর দলবদলের জল্পনায় আরও ঘি ঢালে।

তবে সমস্ত জল্পনা ও গুজব ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে আজ ‘শটগান’ স্পষ্ট বলেন, “২০১৯ সালে আমার কঠিন সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর নির্দেশেই আসানসোল থেকে লড়ে আমি দু-দুবার সাংসদ হয়েছি। তাই আজ দিদির খারাপ সময়ে তাঁকে একা ফেলে চলে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমাকে নিয়ে নানা মিথ্যা গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে আমি বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছি। কিন্তু আমি সবসময় সত্যি কথা বলি। তৃণমূলের ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকে জিতেছি, তাই দল ও মমতার পাশে থাকা আমার নৈতিক দায়িত্ব। আগের মতোই আমি পশ্চিমবঙ্গ ও আসানসোলের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।”

উল্লেখ্য, বিজেপির হাত ধরে রাজনীতি শুরু করে একসময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হয়েছিলেন শত্রুঘ্ন। পরে মোদী জমানায় দল ছেড়ে কংগ্রেসে যান এবং ২০২২ সালে মমতার হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। লোকসভায় যখন শাসকদলকে নিয়ে টানাপোড়েন চলছে, তখন শত্রুঘ্নর এই ‘দিদি-ভক্তি’ তৃণমূল শিবিরের জন্য বড় স্বস্তি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *