বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে আইনি জটিলতা তুঙ্গে!

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার একমাত্র সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলেরই রয়েছে, বিধায়কদের একাংশ এখানে একক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টে এভাবেই সওয়াল করলেন মামলাকারী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়োগের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং পাবলিক নোটিশ না থাকার বিষয়টিও আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি।
দলের সিদ্ধান্ত বনাম বিধায়কদের ভূমিকা
আদালতে পেশ করা যুক্তিতে শোভনদেবের আইনজীবীর স্পষ্ট দাবি, গণতান্ত্রিক কাঠামো অনুযায়ী নির্বাচিত বিধায়করা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি মাত্র। তাই বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা দলগত স্তরে দলনেত্রীর সম্মতিক্রমেই নির্ধারিত হওয়া উচিত। একইসঙ্গে, দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দিয়ে বিধানসভায় ঘর বরাদ্দ করা এবং এই নিয়োগের কোনো প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি না থাকাকে সাংবিধানিক নিয়মের লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
স্পিকারের ভূমিকার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের দাবি
আগামী ১৮ জুন থেকে বিধানসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার প্রাক্কালে এই নিয়োগ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিধানসভার আসন বণ্টনের আগেই স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারির আবেদন জানিয়েছেন মামলাকারী। এর পাশাপাশি, ২০০৬ সালের নজির টেনে আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেছেন যে, বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন থাকা আবশ্যক এবং সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্পিকারের নিজস্ব বিবেচনার বদলে দলের রাজনৈতিক অবস্থানকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এ বিষয়ে স্পিকারের আইনজীবীর কাছ থেকে জবাব তলব করেছে আদালত এবং এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী মঙ্গলবার নির্ধারিত হয়েছে।