‘আমরাই ছুড়েছি হেলফায়ার!’ ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিকদের জাহাজে হামলার নির্লজ্জ স্বীকারোক্তি আমেরিকার

‘আমরাই ছুড়েছি হেলফায়ার!’ ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিকদের জাহাজে হামলার নির্লজ্জ স্বীকারোক্তি আমেরিকার

নয়া দিল্লি: ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিক বোঝাই বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান বা কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী নয়, স্বয়ং মার্কিন সেনাই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে! এবার এই নিয়ে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিল ওয়াশিংটন। আমেরিকার প্রতিরক্ষা বাহিনীর সেন্ট্রাল কম্যান্ড (CENTCOM) সরকারিভাবে জানিয়েছে, ওমান উপকূলে ‘এমটি জলবীর’ নামের বাণিজ্যিক জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে তারাই দুটি শক্তিশালী ‘হেলফায়ার’ মিসাইল ছুড়েছে।

চলতি সপ্তাহে ওমান উপকূলে ভারতীয় নাবিক থাকা তিন-তিনটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার এমন প্রকাশ্য ও আগ্রাসী স্বীকারোক্তি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

কেন ভারতীয় নাবিকদের জাহাজে মিসাইল ছুড়ল আমেরিকা?

মার্কিন সেন্ট্রাল কম্যান্ড জানিয়েছে, আক্রান্ত জাহাজটিতে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি-বিসাউয়ের পতাকা লাগানো ছিল। তাদের দাবি, জাহাজটি ব্যবহার করে ইরান থেকে অন্যত্র তেল পরিবহনের চেষ্টা করা হচ্ছিল। ওমান উপসাগরে আমেরিকার জারি করা বিশেষ সামরিক ব্লকেড বা অবরোধ উপেক্ষা করেই এগোচ্ছিল জাহাজটি।

আমেরিকার আরও দাবি, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান থেকে ‘এমটি জলবীর’-কে থামার জন্য এবং পরিচয় জানানোর জন্য রেডিওর মাধ্যমে বারবার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু জাহাজের ক্রু মেম্বাররা সেই বার্তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে থাকে। নির্দেশ অমান্য করায় সেটিকে শত্রুভাবাপন্ন অবাধ্য জাহাজ (Non-compliant Vessel) হিসেবে চিহ্নিত করে ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে দুটি হেলফায়ার মিসাইল ছোড়ে মার্কিন সেনা। তবে স্বস্তির খবর, জাহাজে থাকা ভারতীয় নাবিকদের সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং কোনো প্রাণহানির খবর মেলেনি।

মার্কিন দূতকে তলব দিল্লির, বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ

ভারতীয় নাবিক থাকা বাণিজ্যিক জাহাজে আমেরিকার এই সরাসরি হামলায় ইতিমধ্যেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সাউথ ব্লক। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই হামলাকে ‘অত্যಂತ উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এর আগে ওমান উপকূলে ‘সেত্তেবেলো’ নামে আরেকটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আমেরিকার হামলায় ৩ জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছিল।

এই ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানাতে দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের প্রধানকে তলব করে কড়া বার্তা (ডেমার্শ) পাঠিয়েছে ভারত। তার পরেই ট্রাম্প প্রশাসনের এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি সামনে এল। বিশেষজ্ঞদের মতে, মিত্র দেশের নাবিকদের সুরক্ষার তোয়াক্কা না করে আমেরিকার এই আগ্রাসন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন ও জটিল সঙ্কটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *